
মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বেড়াতে এসে সমুদ্রের লোনা জলে প্রাণ হারালেন মেহেদী হাসান আবির (২২) নামে এক তরুণ পর্যটক।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবির চট্টগ্রামের আজিজনগর এলাকার বাসিন্দা এবং নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজারে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার দোকানে কর্মরত ছিলেন।
আজ সকালেই তিনি তাঁর তিন বন্ধু—মো. আরিফুল ইসলাম, মো. তানজিন ও মো. মারুফুল হাসান রিপনকে নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন।
বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, দুপুর দুইটার দিকে তাঁরা সবাই মিলে সুগন্ধা পয়েন্টে সাগরে গোসলে নামেন। একপর্যায়ে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে আবির গভীর পানিতে তলিয়ে যান। বন্ধুরা তাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সি-সেইফ লাইফ গার্ড সদস্যদের বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে লাইফ গার্ডের সদস্যরা সাগরে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা তল্লাশির পর বিকেল পাঁচটার দিকে সৈকতের কাছাকাছি আবিরের দেহ ভেসে ওঠে।
তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সি-সেইফ লাইফ গার্ডের দলনেতা সাইফুল্লাহ সিফাত জানান যে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আবিরের মৃত্যু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আজ সকালেই কক্সবাজারে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পানিতে ডুবে মৃত্যু’ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছিল। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এমন মর্মান্তিক সলিলসমাধির ঘটনা পর্যটকদের মাঝে শোকের ছায়া ফেলেছে। যা সমুদ্র সৈকত ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।
বর্তমানে নিহত আবিরের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ