চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে ঈদের আনন্দ ম্লান

পাঁচলাইশ ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে ঈদের আনন্দ ম্লান

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ মার্চ, ২০২৬ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছে নগরীর পাঁচলাইশ আবাসিক ও এর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের। ঈদের জামাতের পর যখন সবাই একে অন্যের বাড়িতে যাচ্ছে, তখন পানিবন্দী ছিল এই এলাকার মানুষ। তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত ও ময়লা পানির কারণে বাসা থেকে সড়কে নামার উপায় ছিল না অনেকের। জলাবদ্ধতা ও দুর্ঘটনার ভয়ে ঈদের দিনও কারো কারো বাসায় অতিথি পর্যন্ত আসার সাহস করেনি বলে জানান পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ।

    

বুধবার সরেজমিন দেখা যায়, পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস, প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সরকারি অফিসার্স ডরমিটরি (নন্দনকানন), জুলাই স্মৃতি উদ্যানের সামনে কোথাও হাঁটু পানি ও কোথাও গোড়ালি সমান পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় এসব এলাকার অধিকাংশ সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায় সময় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান এলাকার বাসিন্দারা।

   

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, হিজড়া খালের কাজ করতে গিয়ে পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় বাঁধ দিতে হয়েছে। যার ফলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পানি চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হলেও পানি প্রবাহ বেশি হলে ড্রেন উপচে সড়কে পানি চলে আসে।

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সেলিম বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ হচ্ছে, আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এ কাজ করতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন অংশে তীব্র দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে আছে। প্রায় সময় যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ঈদের দিনেও ভোগান্তির কমতি ছিল না উল্লেখ করে আবু সাঈদ সেলিম বলেন, পুরো রমজান মাসে নামাজ পড়তে গিয়ে আমরা ভোগান্তির শিকার হয়েছি। ঈদের দিন পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে পানি জমে ছিল। শুধুমাত্র এই কারণে আমাদের অনেকের বাসায় অতিথি পর্যন্ত আসতে পারেনি। আমরা দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত সমাধান হয়নি।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সদস্য এ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের একটি মেগা প্রকল্পের প্রভাব পড়বে, এটা মাথায় রেখে কাজ করা উচিত ছিল সংশ্লিষ্টদের। খালের কাজ চলার সময় পানি চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখলে পাঁচলাইশসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হত না। আমাদের প্রত্যাশা

থাকবে সংশ্লিষ্টরা আমাদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানান, নানা জটিলতার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ করতে হচ্ছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেড ৩৬ খাল নিয়ে কাজ করছে। এরমধ্যে অন্যতম একটি খাল হচ্ছে হিজড়া খাল। এই খালের কাজ করতে গিয়ে পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকায় বাঁধ দিতে হয়েছে। ফলে এই এলাকার বাসিন্দাদের সাময়িক দুর্ভোগ হচ্ছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আমাকে জানিয়েছেন তারা এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করবেন।

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট