
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা যুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক। রয়টার্স/ইপসোস-এর সর্বশেষ এক জরিপ অনুযায়ী, অন্তত ৬১ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইরানের ওপর এই সামরিক হামলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন। জনমতের এই তীব্র বিরোধিতার প্রভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও নজিরবিহীনভাবে কমে এখন সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। খবর এবিসি নিউজের।
যুদ্ধ নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ
‘নির্বোধ যুদ্ধ’ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ট্রাম্পের ইমেজে বড় ধাক্কা দিয়েছে। জরিপের তথ্য বলছে- মাত্র ২৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন এই যুদ্ধ দেশটিকে নিরাপদ করবে।
বিপরীতে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকাকে আরও অনিরাপদ করে তুলবে।
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক আস্থায়
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতা ৪০ শতাংশ থেকে কমে এখন সর্বনিম্ন ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তাঁর সবচেয়ে কম জনসমর্থন।
মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের যেকোনো সময়ের রেটিংয়ের চেয়েও কম।
প্রায় ৬৩ শতাংশ আমেরিকান বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতিকে ‘দুর্বল’ বলে মনে করছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও মধ্যবর্তী নির্বাচন
যদিও রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো তুলনামূলক শক্ত, তবে সাধারণ ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমছে। ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির মতো ইস্যুগুলোতে ট্রাম্পের এই ব্যর্থতা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর যে পরিকল্পনা করছে, তা সাধারণ মানুষের যুদ্ধের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত না কমলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও গভীর সংকটে পড়বে।
পূর্বকোণ/এএইচ