
“কত করে কইলাম তোমরা বাড়ি থাকো, বউ কইল না তুমি একলা যাইবা। আমার ভালো লাগে না। এখন আমারে ছাইড়া কেমনে একলা রাইখা চইলা গেলা। আমি এখন কী করমু?”— স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে এভাবেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মার পাড়ে বিলাপ করছিলেন কুষ্টিয়া থেকে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের এক যাত্রী। তার মতো আরও অনেকের কান্না আর গগনবিদারী আর্তনাদে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল থেকে ভারী হয়ে উঠেছে পদ্মা তীরের আকাশ-বাতাস।
বুধবার বিকেলে ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুন থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫) নামে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের মতে, অন্তত ৩৫ জন যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যদিও স্থানীয়দের দাবি এই সংখ্যা ৪০ ছাড়াতে পারে।
বেঁচে ফেরা যাত্রী আব্দুল আজিজুল জানান, আগামী ২৯ মার্চ কর্মস্থলে ডিউটি থাকায় তিনি একাই ঢাকা ফিরতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্ত্রী স্বামীর সঙ্গ ছাড়তে চাননি। মুহূর্তের অসতর্কতায় চোখের সামনেই তলিয়ে যান তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান আবদুল্লাহ। বাসের ভেতরে আটকা পড়া প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় নদীর পাড়ে ভিড় করেছেন কয়েকশ স্বজন। কেউ বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, কেউবা অপলক তাকিয়ে আছেন ঘোলাটে জলের দিকে।
এদিকে, দীর্ঘ সময় পার হলেও উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ উদ্ধার কাজ শুরু না করায় স্বজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে উদ্ধার অভিযান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে থাকা বাসটির কাছে পৌঁছাতে ডুবুরিরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে নিখোঁজদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ