
‘প্রযুক্তি যখন পাহারাদার, সীমান্ত তখন আরও নিরাপদ’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেকনাফ-উখিয়ার মিয়ানমার সীমান্তে শুরু হচ্ছে স্মার্ট নজরদারির নতুন যুগ। সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে একটি আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তর করতে সীমান্তে অদৃশ্য লেজার সুরক্ষা বেষ্টনী বা ‘লেজার ওয়াল’ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন স্মার্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম যুক্ত করা হচ্ছে। মূলত দুর্গম পাহাড় ও নাফ নদীর জটিল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানেই এই আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হচ্ছে।
এই অত্যাধুনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সীমান্ত জুড়ে একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হবে, যা অতিক্রম করার চেষ্টা করলেই তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ট পৌঁছে যাবে। এই প্রযুক্তির সক্ষমতা এতটাই যে, এটি ৫ কিলোমিটার দূর থেকে মানুষের চলাচল এবং ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে যানবাহনের গতিবিধি শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া সমুদ্রপথে সন্দেহজনক নৌযান পর্যবেক্ষণের জন্য টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক রাডার স্টেশন। পাশাপাশি সেন্টমার্টিন ও ভাসানচরের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে দিনরাত টহল দিচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন (ইউএভি)।
সীমান্তে অপরাধ দমনে এই প্রযুক্তি বহুমুখী ভূমিকা পালন করবে। থার্মাল ইমেজার প্রযুক্তির সাহায্যে ঘন কুয়াশা কিংবা গভীর রাতেও মানুষের শরীরের তাপ শনাক্ত করে ছবি পাঠানো সম্ভব। এমনকি মাটির নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গ খনন বা গোপন চলাচল ঠেকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড ভাইব্রেশন সেন্সর, যা সামান্যতম কম্পনও শনাক্ত করতে সক্ষম।
বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, এই স্মার্ট ফেন্সিং ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মাদক চোরাচালান, মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে একদিকে যেমন দুর্গম এলাকায় দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনেক সহজ হবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ