চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

চকরিয়ায় মাদক অভিযানে গিয়ে এএসআইয়ের মৃত্যু

চকরিয়া প্রতিনিধি

২৪ মার্চ, ২০২৬ | ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় মাদক অভিযানে গিয়ে পুলিশ সদস্য এএসআই রূপন কান্তি দে’র (৪২) আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে।

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পুলিশের বক্তব্যে মিল না থাকায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ফলে এই মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হারবাং স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি জুনাইদ নামের এক যুবলীগ কর্মী এলাকায় অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এসআই মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে এএসআই রূপনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করার চেষ্টা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে এএসআই রূপন হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় পরিস্থিতির সুযোগে ধৃত ব্যক্তি পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ কোনো আসামি ধরতে যায় নি। হারবাং স্টেশনের একটি দোকানে অবস্থানকালে এএসআই রূপন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান।’

পুলিশের এ বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয়দের বর্ণনার অসামঞ্জস্য ঘটনাটিকে ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অজ্ঞান হয়ে পড়ার পর সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান চিকিৎসক ডা. জায়নুল আবেদীন জানান, হাসপাতালে আনার সময় তিনি মৃত ছিলেন। তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রূপন কান্তি দে দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি একাধিকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং তার হার্টে রিং বসানো হয়েছিল।

নিহতের স্বজন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা ঝুলন দত্ত জানান, রূপন কান্তি দে আগে থেকেই হার্টের রোগী ছিলেন। অতীতেও দুইবার স্ট্রোক করেছিলেন। এবার তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এসআই মোফাজ্জল হোসেন মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পূর্বকোণ/জাহেদ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট