চট্টগ্রাম রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে থাকবে না কোনো স্থাপনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার সংবাদদাতা

২২ মার্চ, ২০২৬ | ৮:২১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা রাখা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২২ মার্চ) বিকেলে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদকৃত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে দীর্ঘদিনের ‘ঝুপড়ি বস্তি’ মুক্ত হয়ে সৈকত এখন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। গত ৯ মার্চ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া এক সপ্তাহের আল্টিমেটামের পর সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ৫ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। আজ সেই উচ্ছেদকৃত এলাকা পরিদর্শনে যান মন্ত্রী।

এসময় সাথে ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, শাহজাহান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। উচ্ছেদের ফলে এখন রাস্তা থেকেই দেখা যাচ্ছে নীল জলরাশি, যা এবারের ঈদের ছুটিতে আসা পর্যটকদের কাছে বিশেষ পাওনা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগ:

সৈকত উচ্ছেদের পাশাপাশি সামনে এসেছে ‘বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র রহস্যময় কার্ড বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ৫ শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পরিচয়পত্র দেওয়া হলেও তার অধিকাংশ ছিল বহিরাগত। ১০ হাজার টাকায় নবায়ন করা এই কার্ডগুলো ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়ার এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল।

পরিবেশবাদী সংস্থা ‘ইয়েস’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক জানান, এই কার্ড বাণিজ্য থেকে বছরে অন্তত ১৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়, যার কোনো স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া যায় না। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার মতে, সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে এই কার্ড প্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত করতে হবে, না হলে পুনরায় দখলের চক্রান্ত চলতে থাকবে।

কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান বলেন, প্রতিবছর কক্সবাজারে আসা ৬০-৭০ লাখ পর্যটকের সিংহভাগই সৈকতে নামার সময় বালিয়াড়িতে ঝুপড়ি দোকানের বস্তি সদৃশ পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন, যেখানে জঞ্জালের পাশাপাশি ডালপালা মেলেছিল নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও; তবে বর্তমানে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হওয়ায় সৈকত তার চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে সমুদ্রের এক নতুন ও পরিচ্ছন্ন আবেদন তৈরি করার পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ দূষণ রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুধু শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতের প্রতিটি ইঞ্চি দখলমুক্ত করা হবে। তবে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তালিকা করে তাঁদের পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। সৈকতের এই নতুন রূপ ধরে রাখা এবং অপরাধ নির্মূল করা এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট