চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে ‘মামলা বাণিজ্যে’ অভিযুক্ত এসআই সুষ্ময়ের বদলি

কক্সবাজারে ‘মামলা বাণিজ্যে’ অভিযুক্ত এসআই সুষ্ময়ের বদলি

কক্সবাজার সংবাদদাতা

১৯ মার্চ, ২০২৬ | ১:২০ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে মোটরসাইকেল পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশের বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সুষ্ময় দাশের বিরুদ্ধে কারাগারে বন্দি থাকা ব্যক্তিকে আসামি করা এবং চাঁদাবাজির ভুয়া ধারা যুক্ত করার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাকে তাৎক্ষণিক কক্সবাজার সদর থানা থেকে উখিয়ায় বদলি করা হয়েছে।

 

গত ৫ মার্চ সন্ধ্যায় কলাতলী সায়মন বিচ হোটেলের পাশে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে জামাল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম সামি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার তদন্তভার পান সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুষ্ময় দাশ।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মামলার ২ নম্বর আসামি সোহেল নামের এক যুবক ঘটনার সময় (৫ মার্চ) কারাগারে বন্দি ছিলেন। রেকর্ড অনুযায়ী, সোহেল জানুয়ারি মাস থেকে জেলে ছিলেন এবং জামিনে মুক্তি পান ৯ মার্চ। জেলে থাকা সত্ত্বেও তাকে মারামারির ঘটনায় আসামি করা এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই মামলায় ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘হত্যাচেষ্টা’র ধারা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সংঘর্ষে গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম সামিকে ৫ মার্চ থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ময় দাশ বা সদর থানার ওসি ছমিউদ্দিন দীর্ঘ ১২ দিন বিষয়টি আদালতকে জানাননি। ফলে আহত আরিফ সময়মতো জামিন আবেদন করার সুযোগ পাননি। দীর্ঘ ১২ দিন পর গত ১৭ মার্চ চিকিৎসাধীন আরিফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

অন্যদিকে, আরিফের ওপর হামলার ঘটনায় তার মায়ের দায়ের করা পাল্টা মামলাটি নিতে পুলিশ শুরুতে চরম অনীহা দেখায় এবং ঘটনার ৫ দিন পর ১০ মার্চ সেই মামলাটি গ্রহণ করে।

 

এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুষ্ময় দাশ সব দায় সদর থানার ওসির ওপর চাপিয়ে বলেন, ওসি মামলা গ্রহণ করার পর তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে এসআই সুষ্ময় এই বদলিকে নিয়মিত বদলি হিসেবে দাবি করেছেন।

 

অন্যদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিনের দাবি, বাদী যেভাবে এজাহার দিয়েছেন সেভাবেই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে নাম বাদ দেওয়া হবে। তবে জেলে থাকা ব্যক্তিকে আসামি করা আইনের পরিপন্থী কি না—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

 

ইতোমধ্যে এসআই সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে উখিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে।

 

জেলার একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এই পুরো ঘটনাকে আইনের চরম লঙ্ঘন ও আসামির সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

তিনি জানান, চিকিৎসাধীন আসামিকে পুলিশ হেফাজতে রাখলে দ্রুত আদালতকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট