
এই বাংলার মায়াভরা পথে অর্ক কী আবার হাঁটবে? নিজের মতো করে, খুশি হয়ে? নাকি কিশোর বয়সেই থেমে যাবে তার চলার পথ? থেমে যাবে চৈত্রের দুপুরে পুকুরের জলে ঝাঁপিয়ে পড়া, থেমে যাবে পড়ন্ত বিকেলের মাঠে বল কিংবা ব্যাট হাতে ছুটে চলা?
বলছি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার অংকন ভট্টাচার্য অর্কের কথা। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এই ছাত্র অল্প বয়সেই আক্রান্ত হয়েছে হাড়ের মরণব্যাধি ক্যান্সার হাই গ্রেড অস্টিওসারকোমায়।
গত দেড় বছরে একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে চিকিৎসার পেছনে সর্বস্ব হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে তার পরিবার। জমিজমা ও বসতভিটা বিক্রি করে, ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর সেই সামর্থ্য নেই।
প্রায় ১৩ মাস ভারতে চিকিৎসা শেষে গত ৫ মার্চ দেশে ফিরে এসেছে অর্ক। কিন্তু ফিরে এসে নিজের বাড়িতে ওঠার মতো অবস্থাও নেই তাদের। প্রায় ৩৯ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে গত ১০ দিন ধরে প্রতিবেশী বিনয় মাস্টারের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে অর্কের পায়ের হাঁটুর উপরের অংশে মাঝে মাঝে ব্যথা অনুভূত হতে থাকে। প্রথমে পরিবার ভেবেছিল ক্যালসিয়াম বা ভিটামিনের অভাবের কারণে এমনটি হচ্ছে। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করানো হয়। সেখানে সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে ধরা পড়ে অর্ক হাই গ্রেড অস্টিওসারকোমা নামের দ্রুত বিস্তারকারী হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত।
চিকিৎসকরা জীবন বাঁচাতে অর্কের পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিলে পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তবুও সন্তানের জীবন বাঁচানোর আশায় শেষ চেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে নিয়ে ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান তার বাবা।
সেখানে দীর্ঘ ১৩ মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে ফিরলেও থামেনি দুশ্চিন্তা। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে ইতোমধ্যে এক কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানায় অর্কের মা অলকা চক্রবর্তী। তিনি জানান, ‘অর্কের বাবা কান্তি লাল ভট্টাচার্য আগে ইস্পাহানী গ্রæপে মার্কেটিং রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে চাকরি করতেন। কিন্তু ছেলের চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করায় সেই চাকরিটিও নেই। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় আগের চাকরিতে যোগদানের চেষ্টা করছেন। ফলে এখন পরিবারে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে।
অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে কান্তি লাল ভট্টাচার্য বলেন, অর্ক আমার একমাত্র সন্তান। তাকে বাঁচাতে যা ছিল সব বিক্রি করেছি, ঋণও করেছি। ভারতে তার পায়ে দুইবার অস্ত্রোপাচার হয়েছে। প্রায় ২৪ সেন্টিমিটার হাড় কেটে বাদে দেওয়া হয়েছে। এক বছর ধরে ছেলেটাকে কেমো দিয়েছি। এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। সমাজের সহৃদয়বান মানুষ যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার ছেলেটাকে বাঁচাতে পারবো। আবারও প্রাণ খুলে হাঁটতে পারবে।”
একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে এখন সমাজের মানবিক মানুষের সহায়তাই হয়ে উঠেছে অর্কের পরিবারের শেষ আশ্রয়। অর্কের চিকিৎসায় সহায়তা পাঠাতে যোগাযোগ করা যেতে পারেন-মোবাইল: ০১৮১৯-০৭৬৭৫৯, একাউন্ট নম্বর: ৩০০১-০৩১০১৮৪৯২৫, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পটিয়া শাখা।
পূর্বকোণ/ইবনুর