চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

সর্বশেষ:

শঙ্খ নদী থেকে অবাধে তুলছে বালু, ঝুঁকিতে খোদারহাট সেতু
শঙ্খ নদী থেকে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু।

শঙ্খ নদী থেকে অবাধে তুলছে বালু, ঝুঁকিতে খোদারহাট সেতু

চন্দনাইশ সংবাদদাতা

১৭ মার্চ, ২০২৬ | ৪:২০ অপরাহ্ণ

খরস্রোতা নদী শঙ্খ। এ নদীর ভাঙনে অনেক হারিয়েছেন ভিটেমাটি। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতি বর্ষায় এখনও ভাঙনের শিকার হচ্ছে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী সাধারণ মানুষ। এ ভাঙন প্রতিরোধে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সরকার বসিয়েছে ব্লক। নদীর উপর নির্মিত হয়েছে সেতু। সেই সেতুর পিলারের নিকট ও ধোপাছড়ি চিড়িংঘাটা এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার ঘন ফুট বালু অবাধে উত্তোলন করছে বালু দস্যুরা। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে শঙ্খ নদীর উপর নির্মিত সেতু ও সরকারিভাবে বসানো ব্লক।   
নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাই শঙ্খ নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের কোনো নিয়ম না থাকা সত্তেও এসবের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শঙ্খ নদীর চন্দনাইশ উপজেলাধীন ধোপাছড়ি চিড়িংঘাটা পয়েন্ট থেকে গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে হাজার হাজার ঘন ফুট বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে বালু দস্যুরা। গত কয়েকদিন ধরে এমনকি আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে বৈলতলী খোদারহাট সেতুর পিলারের নিকট থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে খোদারহাট সেতু ও নদীর দুই পাড়। নদীর উভয় পাড়ের ফসলি জমি ও তীরবর্তী গ্রামগুলো নদী ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষায় বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। জানা যায়, নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য সরকারিভাবে কাউকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালু দস্যুরা। এ সময় বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিতরা জানান, চলমান দিয়াকুল-চিরিংঘাটা-ধোপাছড়ি সংযোগ সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কাজে স্থানীয় দুই জন লোক সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। 
এদিকে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ সম্প্রতি তার বিভিন্ন বক্তব্যে শঙ্খ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী, কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এমপির এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই শঙ্খ নদী থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন ও রাতভর সারা চন্দনাইশে শত শত ট্রাকে ধানিজমির টপসয়েল কেটে নেয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বালু উত্তোলনের কথা বলা হলেও তা বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বালু দস্যুরা। 
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শঙ্খ নদীর যে পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখানে গত বছর গভীর গর্তে পড়ে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মারা যায়। বর্তমানে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে নদীর উভয় তীর ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত বছর একই স্থান থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে এক গ্রুপের ইন্ধনে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা এসে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রায় দেড় বছর পর পুনরায় সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। তবে আবারও শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বৈলতলীর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা এড. শফিউল হক চৌধুরী সেলিম বলেছেন, গতকাল ১৭ মার্চসহ দুই দফা শঙ্খ নদীর খোদারহাট সেতুর পিলার নিকট থেকে বালু উত্তোলনের ভিডিও চিত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হোসেনকে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু সেরকম কোনো দৃশ্য তার চোখে পড়েনি বলে জানান। 
এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন বলেছেন, বিষয়টি জেনে সহাকারি কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তাছাড়া হঠাৎ করে কিছু মানুষ রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে নেয়ার ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে।
পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট