চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

সুগন্ধার পর এবার দখলমুক্ত হচ্ছে কলাতলী সৈকত

সুগন্ধার পর এবার দখলমুক্ত হচ্ছে কলাতলী সৈকত

কক্সবাজার সংবাদদাতা

১৬ মার্চ, ২০২৬ | ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের হারানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। সুগন্ধা পয়েন্টের পর এবার কলাতলী সৈকত এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। 

 

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

 

দুপুরে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মনজু বিন আফনানের নেতৃত্বে কলাতলী সৈকতে আভিযানিক দল পৌঁছায়। প্রশাসনের উপস্থিতি ও কঠোর অবস্থান দেখে অনেক ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগেই ত্রিপল ও প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি তাঁদের অস্থায়ী দোকানপাট ও মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে বালিয়াড়ি দখল করে গড়ে ওঠা এসব ঝুপড়ির কারণে সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

 

শুধু অবৈধ দোকান উচ্ছেদই নয়, সৈকতে পর্যটকদের বসার জন্য নির্ধারিত ‘কিটকট’ (চেয়ার-ছাতা) বসানোর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। অনুমোদিত কার্ডের বাইরে বা নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে অতিরিক্ত কিটকট বসানো হচ্ছে কি না, তা আজ সরাসরি তদারকি করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে সৈকতের লাবণীসহ অন্যান্য পয়েন্টেও এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে।

 

সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া কঠোর নির্দেশনার পরই কক্সবাজার সৈকতকে জঞ্জালমুক্ত করার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ শুরু হয়। এর আগে গতকাল সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ৬ শতাধিক স্থাপনা অপসারণ করা হয়। পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে সমুদ্র দর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। টানা এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে সৈকত আবারও তার চিরচেনা উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক রূপ ফিরে পাচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সমুদ্র দর্শনের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করবে।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট