চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই

চট্টগ্রামে ২৮ সাংবাদিকসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই

অনলাইন ডেস্ক

৯ মার্চ, ২০২৬ | ১০:১৪ অপরাহ্ণ

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, চট্টগ্রামের ২৮ সাংবাদিকসহ মোট ১০৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ চেষ্টা, আক্রমণ ও মিথ্যা সংবাদ প্রচারের অভিযোগে করা মামলার তদন্তে সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

 

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে পিবিআই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় গতকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাদীকে বারবার ডাকার পরও তিনি কোনো তথ্য দেননি এবং উল্লেখিত সাক্ষীদেরও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, মামলার বাদীকে হাজির হয়ে তাঁর বক্তব্য দিতে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি মামলার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। পরে তার বাসায় গেলে তিনি তথ্য দেবেন জানিয়ে আর যোগাযোগ করেননি। এ ছাড়া বাদী মামলায় যেসব সাক্ষীর নাম-ঠিকানা দিয়েছেন, তাঁদেরও পাওয়া যায়নি। মমলায় জব্দ করার মতো কোনো আলামতও খাওয়া যায়নি।

 

২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলাটি করেন নগরের মোহরা সায়রা খাতুন কাদেরিয়া গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসিনা মমতাজ। পরে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিকেরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় প্রকৃত ঘটনা গোপন করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেন। ৪ আগষ্ট বাদী যখন নিউমার্কেট এলাকায় ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান ও গুলি ছোড়েন। শিক্ষার্থীরা গলিতে লুকানোর চেষ্টা করলে, সাংবাদিকেরা তাঁদের মারধর করেন এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে তুলে দেন। সাংবাদিকেরা প্রকৃত ঘটনাগুলো তুলে না ধরে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রকাশ করেছেন।

 

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর মা ও চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, দৈনিক আজাদীর সংবাদিক শুকলাল দাশ, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সময় টিভির প্রমল কান্তি দে, ইনডিপেনডেন্ট টিভির অনুপম শীল, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আজহার মাহমুদ, বাংলানিউজ ২৪ ডটকমের তপন চক্রবর্তী, ফটোগ্রাফার উজ্জ্বল কান্তি ধর; বিএফইউজের নেতা কাজী মহসিন, একুশে টিভির একরামুল হক, সারা বাংলা ডট নেটের রমেন দাশ গুপ্ত, বিডিনিউজ ২৪ ডটকমের সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরী ও উত্তম সেন গুপ্ত, দৈনিক সমকাল-এর কুতুব উদ্দিন, দীপ্ত টিভির রুনা আনসারি, একুশে টিভির রফিকুল বাহার, ডিবিসি নিউজের মাসুদুল হক, বিশ্বজিৎ রাহা, ভোরের কাগজ-এর সমরেশ বৈদ্য ও সিপ্লাসের সৌরভ ভট্টাচার্য্য।

 

এ ছাড়া যুবলীগের নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নূরুল আজিম রনি , ছাত্রলীগ অন্যান্য নেতা-কর্মীসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় মামলায়।

 

জানতে চাইলে মামলার বাদী হাসিনা মমতাজ বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম। আমার ভাই গিয়েছিলেন পিবিআই অফিসে। এভাবে প্রতিবেদন দিতে পারে না পুলিশ। আমি আইনি ব্যবস্থা নেব।’

 

আদালত সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম ও মহানগরে এ পর্যন্ত ১৪৮টি মামলা হয়েছে। এসব এজাহারনামীয় আসামির সংখ্যা ১৩ হাজার ২৭। এর বাইরে অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা অন্তত ৩০ হাজার।

 

পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট