চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রমজানে কিডনি রোগীর জীবন-যাপন ও খাদ্য

রমজানে কিডনি রোগীর জীবন-যাপন ও খাদ্য

অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার দত্ত

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১২:২৬ অপরাহ্ণ

ক্রনিক কিডনি ডিজিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সাধারণত কিডনি রোগীদের মধ্যে যাদের স্টেজ ৪ বা তার বেশি, যেমন ৪০ বছরের একজন ৬০ কেজি পুরুষের রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিন ২.৫ এর বেশি হলে, তাদের রোজা রাখা নিষেধ। তবুও যারা রোজা রাখতে আগ্রহী, তারা ৭ দিন রাখার পর শরীর খারাপ লাগলে, প্র¯্রাব কমে গেলে অথবা সিরাম ক্রিয়েটিনিন বেইজ লাইনের ১.৫ গুণ বা তার বেশি হলে রোজা থেকে বিরত থাকা উচিত।

 

ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীরাও সাধারণত রোজা না রাখাই নিরাপদ। তবে যারা রাখতে চান বা গত বছর রোজা রেখেও কোনো সমস্যা হয়নি, তারা চিকিৎসকের সুপারভিশনে রোজা রাখতে পারেন বা রাতের ডায়ালাইসিস করতে পারেন। কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট রোগীরা যাদের এক বছর হয়ে গেছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা স্থিতিশীল, তাদেরও রোজা রাখতে সমস্যা হয় না। অন্য ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ফলোআপে রোজা রাখা যাবে।

 

ক্রনিক কিডনি রোগীদের জন্য কিছু খাবার নিষিদ্ধ। কলা, কমলা, তেঁতুল, টমেটো, পালং শাক, মুলা শাক, পুঁই শাক, খেজুর, আলু বোখরা, কিসমিস, নোনতা বিস্কিট খাওয়া উচিত নয়। লাল শাক, ধনে পাতা, অতিরিক্ত আলু, অতিরিক্ত ইউরিক এসিডযুক্ত খাবার যেমন কলিজা, শিমের বিচি, বরবটি, শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ, বাছুরের মাংসও এড়িয়ে চলতে হবে। ফসফেটযুক্ত খাবার যেমন দুধ, ডাল, বাদাম, সয়াবিন, অক্সালেটযুক্ত চা, কফি, সোডা, চকলেট, জাম এবং অতিরিক্ত সাইট্রাসযুক্ত লেবু, মাল্টা, আমলকি কম খাওয়া উচিত।

 

সাধারণভাবে কিডনি রোগীরা সবসময় খেতে পারেন মুলা, পিঁয়াজ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ঢেড়স, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, তিত করলা, ব্রকোলি, ফুলকপি, বিচি ছাড়া শসা, ডাটা শাক, হেলেঞ্চা শাক, কচু শাক। কম পটাশিয়ামযুক্ত খাবারের মধ্যে আপেল, নুডলস, পেস্তা, পেয়ারা, আনারস, পাকা পেপে অন্তর্ভুক্ত। প্রোটিনের জন্য ডিমের সাদা অংশ, পুকুরের মাছ, দেশি মুরগির মাংস প্রতিদিন এক ছটাক থেকে দেড় ছটাক খাওয়া উচিত। ডালের পানি খাওয়া যায়, কিন্তু ঘন ডাল খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে তাদের জন্য নিষিদ্ধ খাবারও এড়িয়ে চলা জরুরি।

 

রোজার সময় ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে ৪-৬ গ্লাস পানি পান করা জরুরি। কোল্ড ড্রিংক বা সোডা এড়িয়ে চলা উচিত। ফ্রুট জুস ১২৫-২৫০ মিলি মাত্র গ্রহণ করা যেতে পারে। চাল, রুটি, পরিমাণমতো ভাত, মুড়ি, চিড়া খাওয়া যাবে, তবে বুট, পিঁয়াজু বা তেলে ভাজা বেগুনি এড়িয়ে চলা উচিত। রোজার সময় হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে, বিশেষ করে ইফতারের পরে হাঁটা বা স্কোয়াটিং সুবিধাজনক। ভরা পেটে ব্যায়াম করা উচিত নয়। (বিভিন্ন জার্নাল এবং এক্সপারট ওপিনিয়ন অবলম্বনে)

 

লেখক : নেফ্রোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট