
রমজান মাসে হৃদরোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কি না- এ প্রশ্নে প্রতিবারই রোগীদের উদ্বেগ দেখা যায়। জটিল বা উচ্চঝুঁকির রোগী ছাড়া অধিকাংশ হৃদরোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা রাখতে পারেন। সঠিক প্রস্তুতি, সময়মতো ওষুধ সেবন এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস রোজার সময় জটিলতা কমাতে সাহায্য করে। হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে রোজা পালনে সাধারণত সমস্যা হয় না। বরং নিয়মিত জীবনযাপন ও খাদ্যনিয়ন্ত্রণ রক্তচাপ সঠিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
যাঁদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে, তাঁদের রোজা পালনে বাধা নেই। তবে লবণ, তেল-চর্বি ও ভাজাপোড়া খাবার কম খেতে হবে। রান্না করা ছোলার চেয়ে ভেজানো ছোলা পেঁয়াজ, মরিচ ও আদা দিয়ে খেলে তা হৃদরোগী ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য বেশি উপকারী। দই বা টক দই শরীরের জন্য ভালো এবং ফ্যাটের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
যাঁরা প্রতিদিন তিনবার ওষুধ সেবন করেন, তাঁদের সেহরিতে সকালের, ইফতারে দুপুরের এবং রাতে শোয়ার সময় রাতের ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খালি পেটে খাওয়ার ওষুধ ইফতারের সময় গ্রহণ করা যেতে পারে। ইনসুলিন ব্যবহারকারীদের সকালে নেওয়া ডোজ ইফতারে এবং রাতের ডোজের অর্ধেক সেহরিতে নিতে হবে।
রোজার সময় অনেকের রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। এ অবস্থায় শরীরে পানিশূন্যতা বা লবণঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত পানি বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা লাগতে পারে। রোগীর জন্য ঘরে একটি ডিজিটাল প্রেসার মেশিন রাখা উচিৎ।
রোজা অবস্থায় বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে রোজা ভেঙে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। পেসমেকারযুক্ত রোগী, ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা রোগী অথবা বাইপাস ও এনজিওপ্লাস্টি করা রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা রাখতে পারবেন।
হৃদরোগীরা প্রতিদিন একটি ডিম কুসুমসহ এবং ছানা ছাড়া এক কাপ দুধ খেতে পারেন। তবে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। বিশেষ সতর্কতা হিসেবে তিনি ভুরিভোজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করলে অধিকাংশ হৃদরোগীর জন্য রোজা রাখা নিরাপদ এবং উপকারী হতে পারে।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হৃদরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং ডিন, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
পূর্বকোণ/ইবনুর