চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ

কক্সবাজারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

উৎসবমুখর পরিবেশে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে জেলার ৫৯৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শীতের সকাল উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটারদের উপস্থিতি কেন্দ্রগুলোতে এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

 

এবারের নির্বাচনের বিশেষ দিক হলো ভোটারদের দুটি আলাদা ব্যালটে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে। সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সাদা রঙের ব্যালট এবং রাষ্ট্র সংস্কার বা গণভোটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে গোলাপি ব্যালট। সকালে সদর উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা এক তরুণ ভোটার জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে এবং দেশের প্রয়োজনে গণভোটে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত।

 

ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজারে মোতায়েন করা হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এর মধ্যে ২ হাজার ১৬৬ জন সেনাসদস্য, ৮৮০ জন বিজিবি সদস্য এবং নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন ৭ হাজার ৭৭৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিটি এলাকায় টহল দিচ্ছে, বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে।

 

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৪টি আসনে (কক্সবাজার সদর, চকরিয়া-পেকুয়া, উখিয়া-টেকনাফ ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া) মোট ভোটার ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ৫৯৮টি কেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ চলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে ১২ হাজার ২৫১ জন নির্বাচন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

 

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আ মান্নান জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে তাঁদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্সগুলোও প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আশাবাদী, একটি রেকর্ডসংখ্যক ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে কক্সবাজারবাসী গণতন্ত্রের নতুন এক অধ্যায় সূচনা করবেন।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট