
২০২৬ সালের হজ মৌসুমের জন্য ভিসা দেওয়া শুরু আজ ৮ ফেব্রুয়ারি। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার অংশ হিসেবে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, হজ কার্যক্রম-সংক্রান্ত দপ্তরগুলোর জন্য একটি বিস্তারিত পরিচালন ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো-হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমনের বহু মাস আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয় গত বছরের ৮ জুন (১২ জিলহজ ১৪৪৬ হিজরি) থেকে। সে সময় বিশ্বজুড়ে হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনা-সংক্রান্ত নথি পাঠানো হয়। পরে সফর মাসের শুরুতে ‘নুসুক মাসার’ নামের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর তাঁবু ও অবকাঠামো–সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা হয়, যাতে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরির ১ রবিউল আউয়াল থেকে আবাসন ও মূল সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক চুক্তি কার্যক্রম শুরু হবে। আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক শেষ করা, কার্যক্রমের চূড়ান্ত তথ্য নির্ধারণ এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করার কথা রয়েছে।
জুমাদাল আউয়াল মাসে বড় ধরনের সেবা চুক্তি স্বাক্ষর এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে একটি হজ সেবা প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
২০২৬ সালের শুরুতে প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে। জানুয়ারির মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন এবং পবিত্র স্থানগুলোর সেবাসংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার কথা। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া শুরু। মার্চ মাসে ভিসা কার্যক্রম চূড়ান্ত করা এবং হজযাত্রীদের আগমনের আগের প্রস্তুতি–সংক্রান্ত তথ্য জমা নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে প্রথম দফার হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এর মধ্য দিয়ে হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, আগাম পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামো ও সেবাগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা গেলে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ হজ আয়োজন সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার যাত্রী নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি হজ প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৭৩টি হজ কার্যক্রম দপ্তর তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত শর্ত পূরণ করেছে।
আর্থিক লেনদেন ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘নুসুক মাসার’ প্ল্যাটফর্ম ও ইলেকট্রনিক ওয়ালেট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সূত্র: গালফ নিউজ
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ