
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল কোনো রুটিন নির্বাচন নয়, বরং এটি ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নির্বাচন। ডাকসু থেকে জাকসু পর্যন্ত দেশের তরুণ সমাজ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তারা আর কোনো ‘বস্তাপচা’ ও পুরোনো নোংরা রাজনীতির সঙ্গে নেই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে আয়োজিত এই জনসভাটি কার্যত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে একটি ইনসাফপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হবেন জনগণের প্রকৃত সেবক। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে মা-বোনদের সম্মান হবে সর্বোচ্চ এবং যুবকদের হাতে থাকবে কর্মসংস্থান। আমরা বগলে ঋণখেলাপি রেখে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ফাঁকা বুলি দিতে চাই না।’
কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমীর বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে ব্যাংক ডাকাতদের দৌরাত্ম্যের কারণে কক্সবাজার পিছিয়ে পড়েছে। কেন এই শহর সিঙ্গাপুর হতে পারল না? আমরা ক্ষমতায় গেলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনব এবং পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করব। এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের কথা স্মরণ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আমরা কারও ওপর জুলুম করব না। কেউ যদি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে মূলধারায় ফিরতে চায়, তাদের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এই বংশানুক্রমিক রাজনীতির দিন শেষ।’
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান কক্সবাজারের ৩টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দাড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহারছড়া মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও অলিগলি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ক্বারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কোরআন তেলাওয়াত এবং জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এই সভায় জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকীসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
পূর্বকোণ/পিআর