
বছরে প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার বাংলাদেশির মৃত্যু হচ্ছে অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়সহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে। সেই হিসাবে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের অভাবে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে ৭৫ জনের! শুধু মৃত্যু নয়- অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে ভয়াবহ আকারে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা অসংক্রামক রোগও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার অসংক্রামক রোগের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এ বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতনতা এখনও আশঙ্কাজনকভাবে কম। তাই ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি এই খাতে টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়।
গ্লোবাল হেলথ এডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় গবেষণা ও এডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা এই মত দেন। অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নিরাপদ খাদ্য এবং আমাদের করণীয় শীর্ষক এই ওয়েবিনার গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। ওয়েবিনারে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ অসংক্রামক রোগে প্রাণ হারান। অন্যদিকে অতিরিক্ত সোডিয়াম, ট্রান্সফ্যাটযুক্ত খাবার ও চিনিযুক্ত কোমল পানীয়সহ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে দেশে বছরে অন্তত ২৭ হাজার ৩৮৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। অসংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে উল্লেখ করে ওয়েবিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা এখন সবচেয়ে জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন বলেন, ভোক্তারা কী খাচ্ছেন, তার পুষ্টিগুণ বা ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকাই বড় সমস্যা। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্সফ্যাটের মতো ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে সহজ ও দৃশ্যমান তথ্য দিতে ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং কার্যকর একটি ব্যবস্থা হতে পারে। ড. নাজমা শাহীনের বক্তব্য সমর্থন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করতে সরকার ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্ভব নয়।
ওয়েবিনারে আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মনির হোসেন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন সামিহা বিনতে কামাল।
পূর্বকোণ/পিআর