চট্টগ্রাম সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাবার আসন ‘উদ্ধারে’ মরিয়া হুমাম ‘ভূমিপুত্র’ দাবি নিয়ে মাঠে অন্যরা

বাবার আসন ‘উদ্ধারে’ মরিয়া হুমাম ‘ভূমিপুত্র’ দাবি নিয়ে মাঠে অন্যরা

  চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন

মোহাম্মদ আলী ও মো. রাহাত উল্লাহ

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসন জমে উঠেছে ভোটের প্রচার-প্রচারণায়। স্থানীয় নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা দিন-রাত ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। তাদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। প্রার্থীরা একে-অপরকে ঘায়েল করতে পরস্পর বাহাসেও জড়াচ্ছেন।

 

 

রাঙ্গুনিয়ায় ভোটের মাঠে এবার সবচেয়ে বড় বাহাস চলছে ‘বহিরাগত’ এবং ‘ভূমিপুত্র’ নিয়ে। বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর বাড়ি রাউজানে হওয়ায় তাকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন অন্য প্রার্থীরা। নিজেদের ‘ভূমিপুত্র’ দাবি করে তারা ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে বাবা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্মৃতি বিজড়িত আসনে জয়ী হতে আঁটঘাঁট বেঁধে মাঠে নেমেছেন হুমাম কাদের চৌধুরী। রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির কয়েকটি গ্রুপ থাকলেও নির্বাচনকে ঘিরে তারা হুমাম কাদেরের পক্ষে এক সামিয়ানার নিচে এসে কাজ করছেন। ধানের শীষের প্রার্থীকে জয়ী করতে অলি-গলি চষে বেড়াচ্ছেন।

 

 

জানতে চাইলে হুমাম কাদের চৌধুরী পূর্বকোণকে বলেন, ‘দেড়যুগ ধরে রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন থমকে ছিলো। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের  গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন সূর্য উঠেছে রাঙ্গুনিয়ায়। এবার নির্বাচনে জয়ী হলে রাঙ্গুনিয়ার মূল সমস্যা- কৃষি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করবো। রাঙ্গুনিয়া হবে উন্নয়নের মডেল।’

 

 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে কৃষিপণ্য গুদামজাত করার জন্য হিমাগার করব। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করবো। বালি, মাদক ও সন্ত্রাস নিরাপত্তার জন্য হুমকি। প্রশাসনকে শক্তিশালী করে শহীদ জিয়ার গ্রাম সরকার গঠনের মাধ্যমে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে বেকারমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলবো।’

 

 

ভোটাররা জানান- চট্টগ্রাম-৭ আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়নে সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের নিয়ে পথসভা, জনসংযোগ, উঠান বৈঠক, ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। ‎নির্বাচিত হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ আধুনিক রাঙ্গুনিয়া গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি।

 

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষ মুখের কথা নয়, বাস্তব কাজ দেখতে চায়। রাঙ্গুনিয়াবাসীর উন্নয়ন ও কল্যাণে দলের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ‘সংসদে গেলে এলাকার উন্নয়নকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, জনস্বার্থের জায়গা থেকে বিবেচনা করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো- এই মৌলিক খাতগুলোতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। সংসদ সদস্য মানে শুধু আইন প্রণেতা নয়, তিনি এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য প্রাপ্য আদায়ে আমি সবসময় সোচ্চার থাকবো।’

 

 

তরুণ সমাজের কথা উল্লেখ করে ডা. এ টি এম রেজাউল করিম বলেন, ‘যুবকরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়াকে এগিয়ে নিতে চাই। এই নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, এটি ন্যায়, সততা ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ। বিবেকের রায়ে ভোট দিয়ে একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাঙ্গুনিয়া গড়ে তুলুন।’

 

 

এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ছাড়াও এবার রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচনে লড়ছেন- সুন্নি মহাজোট প্রার্থী এম. ইকবাল হাসান (মোমবাতি), ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী আবদুল্লাহ আল হারুন (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী মো. বেলাল উদ্দিন (ট্রাক), এবি পার্টির প্রার্থী আবদুর রহমান মনির (ঈগল), কমিউনিস্ট পার্টি প্রার্থী প্রমোদ বরণ বড়–য়া (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মেহেদী রাশেদ (লাঙল)। এর মধ্যে এম. ইকবাল হাসান রাঙ্গুনিয়ার নানা সমস্যা চিহ্নিত করে ১৩ দফা কর্মসূচি ও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও  বেকারত্বমুক্ত, গুমাইবিলকে ঘিরে কৃষি জোন, কর্ণফুলী রক্ষায় বালি উত্তোলন বন্ধ করে দুই পাড়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্প কারখানার জন্য আলাদা জোন তৈরি, বেকারত্ব দূর করতে কর্ম পরিকল্পনা, আইটি নির্ভর তথ্য প্রযুক্তির স্মার্ট জোনসহ নানা পরিকল্পনার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।

 

ইকবাল হাসান বলেন, ‘জনগণের রায় পেলে সকলের মতামত নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।’

 

 

গণঅধিকার পরিষদ প্রার্থী মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, বেকারমুক্ত করতে রাঙ্গুনিয়াবাসীর জন্য ১৮ পরিকল্পনা আছে। নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।’

 

 

এবি পার্টির প্রার্থী আবদুর রহমান মনির বলেন, ‘নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব দূর করতে কর্ম পরিকল্পনা আছে। এছাড়া পর্যটন শিল্পের প্রতি গুরুত্বের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য আইটি ভিলেজ করব।’

 

 

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া হোসনাইন ‎বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার ১৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে চট্টগ্রাম-৭ আসন গঠিত। এবার নির্বাচনে এই আসনের ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৩১ জন। নারী ভোটার এক লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬জন। হিজরা ভোটার একজন। মোট ভোট কেন্দ্র ৯২টি। ভোট কক্ষের মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৫৬৮টি। অস্থায়ী কক্ষ ৪২টি।

 

 

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, ‘৯২টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

 

 

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট