চট্টগ্রাম জেলার ১৫৬২ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ
চট্টগ্রাম জেলার ১৩ সংসদীয় আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৬২টি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৮ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের আংশিক এলাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন। নিরাপদ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে ১৫৬২ ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৪৫টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে বিবেচনা করেছে জেলা পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলার ১৬ থানা নিয়ে ১৩টি সংসদীয় আসন গঠিত। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৮টি। চট্টগ্রাম-১ এবং চট্টগ্রাম-২ আসনে কোন ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসনে ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৬টি। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই। একইভাবে ফটিকছড়ি আর ভূজপুর থানা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনের ১৪০টি কেন্দ্রের তিনটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। সন্দ্বীপ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮, চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী-সিটি কর্পোরেশন আংশিক) আসনে ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৯৫ কেন্দ্রের মধ্যে ২১, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আংশিক-চান্দগাঁও আংশিক) আসনে ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ২৪, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশসাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৯, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১৫৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২২ এবং চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনে ১১২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এরমধ্যে সন্দ্বীপের ৮৩টি, চন্দনাইশের তিনটি, সাতকানিয়ার একটি এবং বাঁশখালীর তিনটি কেন্দ্রকে দূর্গম এলাকার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পরিপত্রে বলা হয়েছে, অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ তিনজন পুলিশ, অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার, একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, প্রতি ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, একজন অস্ত্রসহ সেকশন কমান্ডার এবং একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার ভিডিপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ দুইজন, সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে অস্ত্রসহ সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রধারী একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রধারী একজন সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার ভিডিপি সদস্য ও দুইজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে।
এছাড়া যেসব এলাকাকে দুর্গম হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে তা হলো, খাগড়াছড়ির পানছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙা, রামগড়, গুইমারা, লক্ষীছড়ি, খাগড়ছড়ি সদর, দিঘিনালা, রাঙামাটির নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বান্দরবানের থানচি, রোয়াংছড়ি, আলিকদম, নাইক্ষংছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা, লামা, চট্টগ্রামের স›দ্বীপ, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ। দুর্গম এলাকার অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য, অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন সাধারণ আনসার ভিডিপি সদস্য, প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রসহ সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য, চারজন মহিলা ও ছয়জন পুরুষসহ ১০ জন আনসার সদস্য ও দুইজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
পূর্বকোণ/এএইচ