
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। গণভোটে হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
একজন নির্বাচন কমিশনার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থানে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। তবে সাংবিধানিকভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরপেক্ষ থাকতে বাধ্য এবং তারা প্রকাশ্যে কোনো পক্ষের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে পারবেন না।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, শিগগিরই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠাবে। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
তিনি বলেন, গণভোট বিষয়ে সাধারণ ভোটার সচেতনতা কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নিতে পারবেন। তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন এ উদ্যোগ নিচ্ছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের উপদেষ্টারাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারাভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে বড় পরিসরে উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে এই প্রচার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেই হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬০০ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার, সহস্রাধিক নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছে। ভোটের কাজে যুক্ত আছেন আট লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারসহ ভোট পরিচালনায় যুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। তবে তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনো পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করতে পারবেন না।
দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী কেউই গণভোটে কোনো পক্ষাবলম্বন করতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আমরা সরকারকে একটি চিঠি দেব। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এই চিঠি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বা প্রচার করতে পারবেন, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারবেন না।”
তিনি আরও বলেন, উপদেষ্টারা কোনো সরকারি কর্মকর্তা নন। ফলে গণভোটে তাদের পক্ষাবলম্বনে কোনো বাধা নেই।
পূর্বকোণ/পারভেজ