চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

টেকনাফে অপহৃত ৬ কৃষকের সন্ধান মিলেনি এখনও, মুক্তিপণ দাবি
পাহাড়ে পুলিশের উদ্ধার অভিযান 

টেকনাফে অপহৃত ৬ কৃষকের সন্ধান মিলেনি এখনও, মুক্তিপণ দাবি

 টেকনাফ সংবাদদাতা

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৭:৩৪ অপরাহ্ণ

টেকনাফের হোয়াইক্যং পাহাড়ে কাজে গিয়ে অপহৃত ৬ জনের সন্ধান এখনও মিলেনি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। দুদিন পার হলেও অপহৃত ৬ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 

গত ২৭ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কৃষক ও কৃষির আধার খ্যাত মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অপহৃত কৃষকরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং মিনা বাজার এলাকার মৃত সুলতান ফকিরের ছেলে মো. জমির (৬২), রবিউল আলমের ছেলে শফি আলম (১৩), এজাহার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আলম ওরফে মাহাত আলম (১৮), মৃত শামসুল আলমের ছেলে জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না (৩০), একই ইউনিয়নের ঝিমংখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের মোজাহের (৬০) ও মোস্তাক আহমদ (১২)। ঘটনার পর পাহাড়ে পুলিশের অভিযান সত্ত্বেও অপহৃতদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

‎স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং মিনাবাজার সংলগ্ন পাহাড়ে দিনমজুর হিসাবে কৃষি কাজ করতে গেলে সশস্ত্র পাহাড়ি ডাকাতদলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে ৬ কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা তাদের খোঁজাখুঁজি এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন।

 

হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল বলেন, কৃষি কাজে গিয়ে পাহাড়ি অস্ত্রধারীরা ছয় কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাহাড়ের ভেতরে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত অসহায় কৃষকদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। অপহরণের রাতে দূর্বৃত্তরা অপহৃত ৬ জনের মধ্যে ১ জনের জন্য ৪ লাখ ও অবশিষ্টদের জন্য ২ লাখ টাকাসহ মোট ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।

 

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, পাহাড়ি এলাকায় কৃষি কাজ করতে গেলে ডাকাত দল ছয় কৃষককে তুলে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। পাশাপাশি অপহৃতদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালানো হলেও এ পর্যন্ত অপহৃত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ভিকটিমদের উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।। ভিকটিমদের পরিবার থেকে এখনও কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। তবুও অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট