চট্টগ্রাম সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

সেন্টমার্টিনে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা

টেকনাফ সংবাদদাতা

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শ্লীলতাহানির শিকার গৃহবধু বাদী হয়ে ২৫ জানুয়ারি মামলা (৮৭) দায়ের করেন। এতে প্রধান অভিযুক্ত ওমর ফারুক (২৩)। তিনি সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের মো. নূর আহমদের ছেলে এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের স্থানীয় স্কুল শাখার সভাপতি। ওমর ফারুক ছাড়াও নুর আহমদের পুত্র আবদুর রহমান (২০), সাদ্দাম (১৮), আরাফাত (২০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সকলেই সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ডেইলপাড়ার বাসিন্দা।

২৩ জানুয়ারি রাতে সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ডেইলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে মারধর করে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩ জানুয়ারি রাতে ভুক্তভোগীর স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওমর ফারুক ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্বামী বাড়ি ফিরে এসে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় অভিযুক্তকে আটক করে জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে জানানো হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি পরদিন মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে রাতেই অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানতে পেরে আমি রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ভুক্তভোগীর স্বামীর ওপরও হামলার খবর পেয়েছি।

দ্বীপের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতনের পর আবার স্বামীকে মারধর করা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ওমর ফারুক আগে থেকেই আমার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করত। ওইদিন আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিই। আমি বিচার চাই। মামলা করায় অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ঘটনাটি আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার শিকার নারী বাদী হয়ে ২৫ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট