
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক অন্তত ৬০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট বা ট্রিগার উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও উদ্ধারকৃত এই অংশগুলোতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না, তবুও এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের কৃষক ও জেলেরা ভয়ে জমিতে বা মাছের প্রজেক্টে কাজে যেতে পারছেন না।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা মাইনে প্রতিনিয়ত হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে মো. হানিফ নামে এক যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শুধু টেকনাফ নয়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুম ও রুমা এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৫০ জন মানুষ তাদের পা হারিয়েছেন। স্থলমাইন স্থাপন ছাড়াও আরাকান আর্মির ড্রোন হামলা ও সীমান্ত অতিক্রম করে গুলিবর্ষণের মতো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু ব্যান ল্যান্ডমাইনসের (আইসিবিএল) ‘ল্যান্ডমাইন মনিটর ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইন বিস্ফোরণে হতাহতের সংখ্যায় মিয়ানমার এখন বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে মূলত সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চলাচল সীমিত করতে এবং তাদের শারীরিকভাবে অক্ষম করে তুলতেই আরাকান আর্মি এসব মাইন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
উখিয়ার বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে মিয়ানমার জাতিসংঘ মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় তাদের ওপর আন্তর্জাতিক জবাবদিহির চাপ কার্যকর হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিজিবি।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ