
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এবার প্রায় ২০ একর ফসলি জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসল আবাদে লোকসান হওয়ায় অধিক লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে তামাকের এই ভয়াবহ বিস্তার ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত মঙ্গলবার উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জ্যৈষ্ঠপুরা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সূর্যব্রত বিলের পূর্ব পাশের একটি বিশাল এলাকার ১২ একর ফসলি জমি এখন তামাকের দখলে। তামাকের উৎকট গন্ধ ও এর ক্ষতিকর প্রভাব জেনেও কয়েক দিন পর পাতা সংগ্রহের নেশায় মত্ত হবেন চাষিরা। বিড়ি, সিগারেট ও গুল তৈরির প্রধান কাঁচামাল এই তামাক পাতায় রয়েছে প্রাণঘাতী নিকোটিন, যা চাষি ও আশপাশের জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জৈষ্ঠ্যপুরায় ব্যাপক আকারে তামাকের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের দাবি, ধান বা সবজি চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পাওয়ায় তারা তামাক চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে তামাক চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে তামাক চাষে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তামাক চাষে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ ও জমির উর্বরতা রক্ষার স্বার্থে তামাক চাষ পরিহার করা জরুরি। তামাকের বদলে ধান, শাকসবজি ও ডাল জাতীয় ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। বিকল্প ফসল চাষে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
পূর্বকোণ/ইবনুর