চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নকশায় আটকে আছে নগর ভবন

বিল না দেওয়ায় নকশা দিচ্ছে না পরামর্শক প্রতিষ্ঠান

নকশায় আটকে আছে নগর ভবন

ইমরান বিন ছবুর

১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে বিল না দেওয়ায় মিলছে না নকশা। আর নকশা না পাওয়ায় কাজ করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চসিক, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই ‘সমন্বয়হীনতার’ কারণে দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে ‘নগর ভবন’ নির্মাণ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনের কাজ যথাসময়ে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান- ২০১০ সালের মার্চে নগরীর আন্দরকিল্লায় নগর ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তবে নানা জটিলতায় তা আর আলোরমুখ দেখেনি। দীর্ঘ সময় পর ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নগর ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি সাইট বুঝে পায় ২০২৪ সালের মে মাসে। এ সময় নগর ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন তৎকালীন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্সের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুনুর রশিদ জানান, তিনটি বেসমেন্ট ও তিনটি ফ্লোর- অর্থাৎ মোট ৬ তলা ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল আমাদের। কিন্তু কাজ শুরুর পর নানা সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে শোল পাইলের কাজ করতে গিয়ে পুরাতন পাইলের দেখা মিলে। ফলে নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়। এরমধ্যে ৩৩৭টি শোল পাইল বসানো শেষ হয়েছে। টাই বিমের কাজও শেষ করেছি আমরা। তবে পরবর্তী ধাপের নকশা না পাওয়ায় এখন আর কাজ করা যাচ্ছে না। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় এখন কাজ করার পারফেক্ট সময়। এই সময়ে যদি আমরা কাজ করতে না পারি তাহলে তো কাজ আগাবে না। আর দুই মাস পরেই বর্ষা শুরু হবে। বর্ষায় তো এ কাজ করা যাবে না। ডিজাইন হাতে পেলে মাটি কাটা ও ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হবে। এই সাইটে আমাদের সব মিলে প্রায় ১০০ জন লোকবল রয়েছে। বর্তমানে সবাই বেকার।

 

নগর ভবনের নকশা প্রস্তুতের কাজ করছে কনসালটেন্ট ফার্ম ‘প্রণয়ন’। দুই বছরেও ভবনের পুরো নকশা কেনো দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে ‘প্রণয়ন’ এর স্বত্বাধিকারী স্থপতি সোহেল মো. শাকুর বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা নগর ভবন নিয়ে কাজ করছি। একাধিকবার ড্রয়িং-ডিজাইন পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর পেছনে আমাদের অনেক টাকা ব্যয়ও হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে আমরা এখনো একটি টাকাও পাইনি।

 

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের সময়ে আমরা নতুনভাবে কাজ শুরু করি। নতুনভাবে আমাদের চুক্তিও হয়। কিন্তু আজ অবদি চুক্তির একটি টাকাও আমাদের দেয়া হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করলে আমরা দ্রæতসময়ে নগর ভবনের ড্রয়িং-ডিজাইন প্রদান করবো।

 

জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর ভবন চসিকের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। সাবেক মেয়র রেজাউল করিম প্রায় চার কোটি টাকায় নকশা করার জন্য চুক্তি করেছেন। কিন্তু নকশার জন্য এত টাকা দেয়া তো সম্ভব না। এসব বিষয়ে সমাধানের জন্য আমি প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি কথা বলে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করবেন।

 

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, নগর ভবনের পুরো প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০২ কোটি টাকা। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মূল ২০২ কোটি টাকার উপর ফি চাচ্ছে। কিন্তু আমরা তো প্রথম ধাপে ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকায় তিনটি বেইজমেন্ট ও তিনটি ফ্লোর নির্মাণ করছি। তাই আপাতত তাদের ২৮ কোটি টাকার উপর কনসালটেন্ট ফি দেয়ার প্রস্তাব করেছি। আশা করি শীঘ্রই এর সমাধান হবে। কাজও দ্রুত শুরু হবে।

 

পূর্বকোন/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট