চট্টগ্রাম শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

পেনশন ছাড়ে নির্দিষ্ট ‘রেট’!

পেনশন ছাড়ে নির্দিষ্ট ‘রেট’!

ইমাম হোসাইন রাজু

১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ

অবসর জীবনের শুরুতে প্রাপ্য বেতন-ভাতা, আনুতোষিক, পেনশন ও জিপিএফ তুলতে গিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে। অভিযোগের নথি ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কাজভেদে ঘুষের একটি অনানুষ্ঠানিক ‘রেট’ নির্ধারণ করে ফাইল ছাড় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের হাতে কার্যালয়টির অফিস সহকারী শাহ আলমকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

 

এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া অফিস সহকারী শাহ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার তাকে বরখাস্ত করা হয়। অন্যদিকে, দুদকের মামলায় শাহ আলমকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। এর আগে গত বুধবার দুদকের হাতে ঘুষের ২০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার হন শাহ আলম।

 

দুদক সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর বৈধ পাওনা ছাড় করতে একাধিক ধাপে অর্থ দাবি করা হয়। বকেয়া বেতন-ভাতা বিল, আনুতোষিক এবং পরবর্তী সময়ে পেনশন ও জিপিএফ- প্রতিটি ধাপেই আলাদা অঙ্কের টাকা চাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আটকে থাকা বিভিন্ন সুবিধা ছাড় করতে গিয়ে একাধিক ধাপে অর্থ দাবি করা হয়েছে।

 

দুদকের মামলা সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয়টির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আ ন ম মুদ্দাছেরুল হক মাসুদের বৈধ পাওনা আদায় করতে একাধিক ধাপে অর্থ দাবি করেন গ্রেপ্তার শাহ আলম। সাময়িক বরখাস্তকালীন বেতন-ভাতা, নববর্ষ ভাতা ও বোনাস মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার ৫৭২ টাকা বকেয়া ছিল মাসুদের। এই বকেয়া পরিশোধের জন্য প্রথমে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে অফিস সহকারী শাহ আলমকে সোনালী ব্যাংক বাঁশখালী শাখার চেকের মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এরপর আনুতোষিকের জন্য ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর একই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয় শাহ আলমকে। কিন্তু এসব টাকা পাওয়ার পরেও শাহ আলম আরও টাকা দাবি করেন। সর্বশেষ পেনশন ও জিপিএফ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করলেও পরে দর কষাকষিতে ২০ হাজার টাকা প্রদানের বিষয়ে কথা হয়। আর সেই টাকা গ্রহণ করতে গিয়েই হাতেনাতে দুদকের কাছে গ্রেপ্তার হন শাহ আলম।

 

এদিকে, ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার শাহ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঁশখালী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইমতিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ঘটনার পর শাহ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঘুষের অর্থ কেবল নগদে নয়, বরং ব্যাংক চেক ও বিকাশের মতো ডিজিটাল মাধ্যমেও লেনদেন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কারো সম্পৃক্ততা আছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট