চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬

৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার এই ৮০০ জনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর প্রবল চাপের মুখে ইরান পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে। গত ২০ দিন ধরে চলা তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা যে নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে, এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের ইতিহাসে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ৪৭ বছরের শাসনামলে এবারের মতো এত বড় ও ব্যাপক গণআন্দোলন আগে কখনো দেখা যায়নি। মূলত দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং মুদ্রার চরম অবমূল্যায়নই এই বিক্ষোভের প্রধান কারণ।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে; যেখানে এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়াল। এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পতনের ফলে ইরানে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানো সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনগণকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট থেকে। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ের প্রতিবাদে শুরু হওয়া সেই ধর্মঘট মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে দাবানলের মতো ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সশস্ত্র সংঘাত ও দমনে এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর একাধিক হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিতের মাধ্যমে ইরান কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন হামলার আশঙ্কাকে আপাতত কমিয়ে আনতে পারে।

যদিও ইরানের অভ্যন্তরীণ অবস্থা এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং বিক্ষোভকারীরা পুরো দেশকে অচল করে রেখেছেন, তবুও এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবন রক্ষা পাওয়াকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট