চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

পা ধরে সালাম করে হওয়া রাষ্ট্রপতি পেতে না চাইলে গণভোটে হ্যাঁ দিন: আলী রীয়াজ

অনলাইন ডেস্ক

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পা ধরে সালাম করাই ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা। সে রকম কোনো রাষ্ট্রপতি আর পেতে না চাইলে আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ দিন। গণভোটেরও মার্কা আছে। সেটি হলো টিক চিহ্ন মার্কা।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে দেশ চালানোর জন্য এই দলিল তৈরি করা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নয় মাস ধরে প্রকাশ্যে আলাপ-আলোচনা করে। এই জুলাই সনদ কোনো কালো কালির অক্ষর নয়, এর প্রতিটি অক্ষর এদেশের ছাত্র-জনতা, দিনমজুরের রক্তের ফোঁটায় ফোঁটায় লেখা। এটি ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, গণভোটে চারটি বিষয়ে একটি প্রশ্ন করা হয়েছে। নির্বাচনে আমরা কোনো দল বা ব্যক্তিকে ভোট দিলেও গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দিইনা। ভবিষ্যতের দেশ যেই দলিলের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হবে সেটিতে আপনি সম্মত হলে আগামীতে যারাই নির্বাচিত হবেন তারা এটি করতে বাধ্য হবেন। রাজনৈতিক দলগুলো অসংখ্য মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে, কিন্তু সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না তারা। আমরা যেই নির্দেশনা দিব সেই মতে তারা যেন দেশ চালান সেজন্য এটি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা পুঞ্জিভূত ছিল। তিনিই ছিল সব। তিনি মন চাইলে সংবিধান সংশোধন করেছেন, আবার কোনো কাজ করেই তিনি বলতেন সেটাতো সংবিধানে আছে। তার কাজের বৈধতা সংবিধান তাকে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির হাতে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেটির অপব্যহার হয়েছে। অর্ধ্বস্তন আদালত থেকে সর্ব্বোচ্চ আদালতেও দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে জিজ্ঞেসও করা হয়নি তারা অপরাধীকে ক্ষমা করে দিতে চান কিনা? ক্ষমা করেছেন রাষ্ট্রপতি কিন্তু নিদের্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ রাষ্ট্রপতিকে বলা হয়েছে দুটো বিষয় ছাড়া সব বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করবেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানে বর্তমানে লেখা আছে রাস্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনাদের নিয়োগ করবেন। কিন্তু সেটি কাকে করবেন সেটি বলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তাহলে সেখানে আর নিরপেক্ষতা থাকে না।

একইভাবে দুনীর্তি কমিশনকে বলতে হয় বিরোধী দল দমন কমিশন। কারণ সরকারি দলের নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে বিদেশে অথচ তারা নিশ্চুপ ছিল। কারণ এই পদ্ধতিতে দুদকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। এগুলো না চাইলে গণভোট হ্যাঁ দিন।

জুলাই সনদ বলা হয়েছে, সরকার যেই টাকা খরচ করবে সেই টাকার হিসাব চাইতে হবে। কারণ সেগুলো জনগণের টাকা। এতে বলা হয়েছে, সংসদে তিনটি কমিটিতে বিরোধী দল থেকে সভাপতিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। নিজের ভোট নিজে দিনের বেলায় দিতে চাইলে হ্যাঁ বলতে হবে। যারা ২-৬ শতাংশ ভোট পান কিন্তু কোনো আসন জয়লাভ করেন না। তাদের কণ্ঠস্বর যেন সংসদে থাকে সেই ব্যব্স্থা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে বলা হয়েছে। ইনসাফ, জবাবদিহিতা নিশ্চিতের রাষ্ট্র চাইলে পরিবর্তনে হ্যাঁ দিতে হবে। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিন্মকক্ষের পাশাপাশি উচ্চ কক্ষ প্রভাব সৃষ্টি করবে। আমরা চাই সংবিধান সংশোধন যেন ছেলেখেলা না হয়। একজন ব্যক্তি যেন সংবিধান সংশোধন করে ফেলতে না পারে। তত্ববধায়ক সরকার ছাড়া আমাদের দেশে কোনো নিরপেক্ষ ভোট এখনও হয়নি। এজন্য এই বিধান রাখা হয়েছে।

গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ বুঝে করছে ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। আর কেউ না বুঝে। কেউ বলছে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকবে না, সংবিধানে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ব থাকবে না। এগুলো ভুল। সবই থাকবে সংবিধানে। তাই আসুন, সবাই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাই। আপনারা সমাজে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারেন। আপনাদের মানুষ সম্মান করে। তাই গণভোটে হ্যাঁ দিতে বলুন।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সিনিয়র সচিব) মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট