চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, মূল পরিকল্পনাকারী বার্মা সাইফুল

সহযোগী শিহাবসহ বার্মা সাইফুল ৩ দিনের রিমান্ডে

নাজিম মুহাম্মদ

১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় অস্ত্রের মুখে চাঞ্চল্যকর ৩৫টি (৩৫০ভরি) স্বর্ণের বার ছিনতাইয়ের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ ছিল বায়েজিদ এলাকার ‘সন্ত্রাসী’ সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুল। পুরো ছিনতাইয়ের ঘটনার নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী ছিলেন নগর ছাত্রদলের এ সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক।

 

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ছিনতাই হওয়া ৩৫০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জনের কাছ থেকে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, বাকী ৬০ ভরি স্বর্ণ (ছয়টি স্বর্ণের বার) বার্মা সাইফুলের কাছে রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার বিকেলে ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে বার্মা সাইফুলকে এক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তার সহযোগী হলেন অক্সিজেন ছৈয়দপাড়া এলাকার শিহাব উদ্দিন। নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুলকে ছিনতাই-চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের দুই মাসের মাথায় গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর সাইফুলের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দল। আর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে পরপরই ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অপরাধে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার নগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আতুরার ডিপো এলাকায় ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সহযোগীসহ বার্মা সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

সাইফুলের স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকা প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার হলেও ৬০ ভরি স্বর্ণ এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে সাইফুল ও সহযোগী শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

আমার আশাবাদী, বাকী ৬০ ভরি স্বর্ণ ও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারবো। কারণ যে এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা সংগঠিত হয়েছে সেটি সাইফুলের অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে পুরো ঘটনা সাইফুল জানতো।

 

বার্মা সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের ৩৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন থানায় সাতটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তার সহযোগী শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে পাঁচটি প্রতারণা ও একটি দস্যুতা মামলা রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সাল।

 

জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের জানিয়েছে, সাইফুল ও শিহাব ছিনতাইয়ে জড়িতদের সঙ্গে ঘটনার দিন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। তারা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাস্টার মাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে।

 

গ্রেপ্তার আরো দুই সহযোগী : এদিকে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ বার্মা সাইফুলের আরো দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত মঙ্গলবার পাঁচলাইশেল হিলভিউ আবাসিক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন রিয়াদ হোসেন (২৮) ও মীর হোসেন প্রকাশ লিংকন (৩১)।

 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম ওরফে বার্মা সাইফুলের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। গ্রেপ্তার রিয়াদের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতাসহ পাঁচটি ও মীর হোসেন প্রকাশ লিংকনের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, দস্যুতা ও ডাকাতির প্রস্ততিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি পাঁচলাইশ থানার আতুরার ডিপো এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট