
নারী ফুটবলে অমীয় সম্ভাবনার আধার দেশের তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান। ক্রীড়াঙ্গনে পাহাড়ি ফুলগুলো গত কয়েকবছর ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বয়ে আনছে ধারাবাহিক সাফল্য। যাদের পা ছুঁয়ে এই সাফল্য তারা কিন্তু ঘরোয়া পর্যায়ে পাচ্ছে না কোন লিগ বা টুর্নামেন্ট। নেই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নিয়মিত কোন ট্যালেন্ট হান্ট কর্মসূচিও। এ নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দৈনিক পূর্বকোণ-এ খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার নারী ফুটবলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরেজমিন ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ে দুটি জেলার কিশোরী-তরুণীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করেছিলেন লিগ বা টুর্নামেন্টের জন্য। পূর্বকোণ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর ক্রীড়া উন্নয়নে আন্তরিক খাগড়াছড়ির প্রশাসনিক পর্যায়ে গতি আরও বেড়েছে। সে সময় দ্রæত লিগ শুরুর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. নোমান হোসেন এবং খাগড়াছড়ি জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সচিব হারুন অর রশিদ। ক্রীড়া উন্নয়নে আন্তরিক দুই কর্মকর্তা দ্রæতই পদক্ষেপ নিলেন। প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রমীলা ফুটবল লিগ। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের আয়োজনে ১৮ জানুয়ারি থেকে ৬ দলের অংশগ্রহণে শুরু হতে যাচ্ছে এই লিগ। বাফুফে নিবন্ধিত জেলার খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমি, পার্বত্য ফুটবল একাডেমি, খাগড়াছড়ি স্পোর্টস একাডেমি, পানছড়ি ফুটবল একাডেমি, হিলস হোপ একাডেমি, স্বপ্ন বিলাস স্পোর্টস একাডেমি, এই ৬টি একাডেমি নিয়েই এই লিগ শুরু হতে যাচ্ছে। এদিকে ১৪ জানুয়ারি থেকে খাগড়াছড়ি ১ম বিভাগ ক্রিকেট লিগ (পুরুষ) শুরু হচ্ছে। লিগের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আহসান ইকবাল চৌধুরী আবির। লিগে ৮ টি দল অংশগ্রহণ করবে।
প্রমীলা ফুটবলে খাগড়াছড়ি জেলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তবে জেলা পর্যায়ে কোন লিগ ছিল না তাদের। ফলে একাডেমিসহ ব্যক্তিপর্যায়ে অনুশীলনরত মেয়েরা পেতেন না ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ। বিচ্ছিন্ন কিছু আয়োজন ছাড়া জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসনের সাথে সেনা রিজিওনের প্রচেষ্টাতেই প্রশিক্ষণ বা অনুশীলন ছিল সীমাবদ্ধ। একটি নিয়মিত লিগ আয়োজনের আকুতি ছিল জেলার নারী ফুটবলারদের। মেয়েদের খেলাধুলার জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে জেলা পরিষদ। এমনটি জানিয়ে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. নোমান হোসেন বলেন, জেলার নারী ফুটবলারদের উন্নয়নে নিয়মিতই কাজ করছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। তারই সূত্র ধরে পাহাড়ি তিন জেলার মধ্যে আমরাই প্রথম শুরু করতে যাচ্ছি প্রমীলা ফুটবল লিগ। প্রথমবারের মতো এই লিগ করতে যাচ্ছি, সঙ্গত কারণেই ফুটবলার মেয়েদের সাথে আমরাও উৎফুল্ল। শুরুতে ৬টি দল থাকলেও ভবিষ্যতে সংখ্যা বাড়বে। দলগঠনে কোন ক্লাবের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে জেলা পরিষদ সেটা করবে জানিয়ে নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের ক্রীড়া অনুশীলনের উপর জোর দিলেন ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ মো. নোমান হোসেন।
জেলা পরিষদের সহায়তায় প্রথমবারের মতো লিগ মাঠে নামানোর কর্মযজ্ঞ শুরু করতে পেরেই আনন্দিত জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। বলেন, যেকোনো কিছুতেই প্রথম হওয়ার আনন্দ ও তৃপ্তি অন্যরকম। নারী ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম শিরোপা আসে এই খাগড়াছড়ির আনুচিং মগিনির গোলে। তারপর আরও অনেক নারী ফুটবলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য বয়ে আনলেও জেলায় নারী ফুটবলের কোন টুর্নামেন্ট বা লিগ ছিল না। আমার নিজেরও খুব আগ্রহ ছিল নারী ফুটবলারদের নিয়ে কিছু একটা করার। শুরুর এই চেষ্টায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ নারী ফুটবল লিগ আয়োজনে সম্মতি প্রকাশ করায় আমি কৃতজ্ঞ। শুরু করলাম, আশা করছি এই লিগ ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবছর আয়োজিত হবে।
দৈনিক পূর্বকোণ-এ প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্বকোণ কর্তৃপক্ষের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নারী ক্রীড়ার উন্নয়নে বরাবরই সরব। তবে পূর্বকোণ-এর প্রতিবেদনগুলো সঠিক গুরুত্ব অনুধাবনে আমাদের সকলকেই সহযোগিতা করেছে। শুধু তাই নয়, নারী ফুটবলারদের মনের কথা প্রকাশ করার জন্য ফুটবলাররাও দৈনিক পূর্বকোণ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য জৌতিষ বসু ত্রিপুরা। ফুটবলারদের মানোন্নয়নে প্রতিযোগিতামূলক আসর খুবই জরুরি। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আমাদের এই সুযোগটি করে দিয়েছে। দৈনিক পূর্বকোণ যেমন জেলার নারী ফুটবলে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উন্নত আগামীর জন্য ভূমিকা রাখছে তেমনি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন ও সেনা রিজওনের সহযোগিতামূলক ভূমিকাও জেলার উন্নয়নের সাথে দেশের নারী ফুটবলকেই আরও এগিয়ে নেবে।
পূর্বকোণ/ইবনুর