চট্টগ্রাম সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

স্বর্ণ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিস্তলের হদিস মেলেনি

স্বর্ণ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিস্তলের হদিস মেলেনি

নাজিম মুহাম্মদ

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১:২৭ অপরাহ্ণ

২০১৯ সালে নগরীর চকবাজার থানায় কর্মরত ছিলো এএসআই সুমন চন্দ্র দাস। এক ব্যক্তিকে আটক করে চাঁদাবাজি করার অপরাধে শাস্তি স্বরূপ তাকে এএসআই থেকে নায়েক করা হয়। থাকতো পুলিশ লাইনে। ২০১০ সালে ছিনতাই করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছিলো পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হাতে। কারগার থেকে জামিনে বের হলেও সংশোধন হয়নি সুমন। এবার ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশ। তার দেয়া তথ্যমতে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তল উদ্ধার করতে পারেনি।

 

স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশকে। জানতে চাইলে গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের উপ কমিশনার (ডিসি) হাবিবুর রহমান প্রমাণিক জানান, এখনো অস্ত্রের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। আসামিদের প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল থানা পুলিশ। কমিশনার মহোদয় ডিবিকে মামলাটির তদন্তভার দিয়েছেন। আমরা নতুন তদন্ত কর্মকর্তা দিয়েছি।

 

পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে চাকরিচ্যুত সাবেক পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে ৮/৯ জন ছিনতাইয়ে জড়িত ছিল। যদিওবা মামলার এজাহারে চারজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ছিনতাই করা স্বর্ণের বার হেফাজতে রাখা এবং ছিনতাইকারীর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ে জড়িত ছিল আরও কয়েকজন। গত ৪ জানুয়ারি হাজারী গলির ‘জয়রাম ট্রেডার্স’র স্বর্ণের কারিগর বিভাস রায়, সবুজ দেবনাথ ও পিন্টু ধর ৩৫টি স্বর্ণের বার (৩৫০ ভরি) নিয়ে সিএনজি ট্যাক্সিতে সীতাকুÐের ভাটিয়ারী যাচ্ছিলো। ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় তাদের বহনকারি ট্যাক্সি আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন যুবক ট্যাক্সির গতিরোধ করে। তারা ধারালো ছুরি ও পিস্তলের ভয় দেখিয়ে স্বর্ণবারগুলো ছিনিয়ে নেয়।

 

ডিসি হাবিবুর রহমান জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনার পরপরই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গাজীপুর জেলার কাশিমপুরের মাধবপুর থেকে সুমন, মাসুদ ও ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূল ছিনতাইয়ে জড়িত চারজনের মধ্যে একজন এখনো পলাতক আছে। এরপর সুমনের দেওয়া তথ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার এলাকা থেকে রবিকে এবং নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে তার স্ত্রী পান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পান্নার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার মোহাম্মদপুরে বোন প্রতিমা দাশের বাসা থেকে ২৯টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এরপর ছিনতাইকারীদের সোনার বার বহনের তথ্য দেওয়া জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী বিবেক বণিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল সুমন: ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি পুলিশের হাতে ১২পিস স্বর্ণবার ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিল সুমন চন্দ্র দাস। ২০২১ সালের ১১ মে নগরীর হাজারীগলির ‘এন কে জুয়েলারি’র ম্যানেজার শেফাল বণিক ১২ পিস স্বর্ণের বার নিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাকার তাঁতী বাজারে। সিটি গেট এলাকা থেকে কৌশলে প্রাইভেটকারে তুলে পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণের বারগুলো কেড়ে নিয়ে জোরারগঞ্জ এলাকায় নামিয়ে দেয় শেফালকে। ঘটনার একমাস পর (৭ জুন ২০২১) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সুমন, রনি ও কায়েস নামের তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শেফাল। আদালত জোরারগঞ্জ থানাকে মালাটি এজাহার হিসাবে গণ্য করে তদন্ত করার আদেশ দেন। জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ মোহন পাল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।

 

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মোহন পাল জানায়, সে বরখাস্তকৃত এএসআই সুমন চন্দ্র দাসের সোর্স হিসাবে কাজ করে। শেফাল বণিকের সাথে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। দু’জনে একসাথে বসে অনলাইনে আইপিএলে জুয়া খেলতো। কথায় কথায় জানতে পারে শেফাল চন্দ্র ঢাকায় স্বর্ণের বার নিয়ে যায়। বিষয়টি সুমনকে জানায় মোহন। সুমনের কাছে শেফালের একটি ছবি পাঠায়। ঘটনার আগের দিন (১০ মে ২০২১) শেফালের সাথে বসে তাস খেলছিল মোহন। তাস খেলার এক পর্যায়ে জানতে পারে পরদিন (১১ মে) সন্ধ্যায় শেফাল স্বর্ণের বার নিয়ে ঢাকায় যাবে। বিষয়টি ফোনে সুমনকে জানিয়ে দেয় মোহন। তারা স্বর্ণের বারগুলো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। ১১ মে সন্ধ্যা সাতটার সময় শেফাল গাড়ির জন্য সিটি গেট এলাকায় দাঁড়ায়। এ সময় কায়েস নামে এক প্রাইভেটকার চালক শেফালের সামনে ঢাকায় যাওয়ার জন্য যাত্রী ডাকাডাকি করে। আগে থেকেই প্রাইভেট কারের ভেতর সামনের সিটে সুমন ও পেছনের সিটে রনি নামে এক যুবক বসা ছিলো। শেয়ারে ঢাকায় যাবার কথা শুনে কায়েসের প্রোবক্স কারে উঠে শেফাল। যাত্রা শুরু করার পর কারটি সীতাকুণ্ড এলাকায় গিয়ে থামায়। ওই সময় কৌশলে বরখাস্তকৃত এএসআই সুমন সামনের সিট থেকে নেমে পেছনের সিটে এসে শেফালের পাশে বসে। গাড়িটি পুনরায় যাত্রা শুরু করার সাথে সাথে সুমন ও রনি চেপে ধরে নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে শেফালের হাতে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ১২ পিস স্বর্ণের বার কেড়ে নিয়ে চোখে মলম লাগিয়ে দিয়ে ভোরে জোরারগঞ্জ থানার বারৈয়ার হাট এলাকায় শেফালকে প্রাইভেট কার থেকে নামিয়ে দেয়।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট