চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

আজ সৈয়দা হোসনে আরা বেগমের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী 

অনলাইন ডেস্ক

৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:৩২ অপরাহ্ণ

১০ জানুয়ারি মহীয়সী নারী সৈয়দা হোসনে আরা বেগমের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি বাংলার নবাব পরিবারের গর্বিত সদস্য। তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন গোলাম মোর্তুজা ও নিখাত আরা বেগমের সন্তান প্রকৌশলী এস. জি. মোস্তাফার সঙ্গে। যিনি নবাব সিরাজউদ্দৌলার অষ্টম প্রজন্মের বংশধর। এই শুভসূত্রেই তিনি যুক্ত হন বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম গর্ব নবাব সিরাজউদ্দৌলার বংশের সঙ্গে।  

সৈয়দা হোসনে আরা বেগমের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৯ মার্চ। তিনি ছিলেন পিতা ডাক্তার সৈয়দ নাসির আলী মির্জা ও মাতা গুলশান আরা বেগমের স্নেহ ও মমতায় লালিত এক মহানুভব কন্যা। তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয় ছিল তাঁর পরিবার, আর সবচেয়ে নিবিড় ভালোবাসার কেন্দ্র ছিলেন তাঁর সন্তানরা। বিশেষ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের নবম প্রজন্মের প্রতিনিধি নবাবজাদা সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব ( আলি আব্বাসউদ্দৌলা ) ছিলেন তাঁর গভীর গৌরব ও অকৃত্রিম স্নেহের প্রতীক। সৈয়দ গোলাম আব্বাস আরেব বর্তমানে ঢাকার খিলক্ষেত লেকসিটিতে বসবাস করছেন। তিনি তার মায়ের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন নিয়ে বলেন, নবাবের বংশদের মৃত্যুবার্ষিকী এদেশে ঘটা করে পালন বা স্মরণ করা হয়না।

সৈয়দা হোসনে আরা বেগম ছিলেন গভীরভাবে ধর্মপ্রাণ। প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, আধ্যাত্মিক সাধনা—এসব ছিল তাঁর জীবনের নিয়মিত অনুষঙ্গ। তিনি ছিলেন মহানবী (সা.), হযরত ফাতিমা (আ.) ও আহলেবাইতের শিক্ষা ও জীবনাদর্শের একজন নিষ্ঠাবান অনুসারী। প্রায় সারা বছর রোজা রাখা, গরিব-দুঃখীদের সহায়তা করা, ধর্মীয় দায়িত্ব পালন—এসবই তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, ইবাদত কেবল ব্যক্তিগত অনুশীলন নয়—এটি মানবিক দায়িত্ববোধ, নৈতিক শক্তি ও দায়িত্বশীল জীবনেরও পথপ্রদর্শক। তাই নিজের পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের প্রতিও ছিল তাঁর বিশেষ সহমর্মিতা। আলেম-উলামাদের সহায়তা করা, দান-খয়রাত করা, মানবসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা ছিল তাঁর জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস।

বিদেশভ্রমণের সুযোগ পেলেও তিনি প্রথমেই গেছেন বাংলার বীর নবাব আলিবর্দী খান এবং দেশপ্রেমিক নবাব সিরাজউদ্দৌলার পবিত্র স্মৃতিধন্য মাজার প্রাঙ্গণ—বাংলার “মদিনা মসজিদ” খ্যাত মুর্শিদাবাদের পবিত্র স্থাপনা ও খোসবাগ জিয়ারতে। তাঁর এই সফর কেবল ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং ঐতিহ্যের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধেরও বহিঃপ্রকাশ ছিল।

২০০১ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি পরপারে পারি জমান। আজও বহু মানুষ তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে মাগফেরাত কামনা করেন। স্মৃতির পাতায়, ভালোবাসার গভীরতায় তিনি এখনো বেঁচে আছেন।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট