নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ৩৫০ ভরি গলানো স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়েছে একদল অস্ত্রধারী। হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী কৃষ্ণ কর্মকারের তিনজন স্বর্ণের কারিগর স্বর্ণগুলো নিয়ে ঢাকার তাঁতী বাজারে যাচ্ছিলো। গত রবিবার ভোরে দুর্ধর্ষ এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হয় সোমবার।
এ ঘটনায় স্বর্ণের কারিগর সবুজ দেবনাথ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। কৃষ্ণ কর্মকারের অভিযোগ, বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এএসআই সুমন চন্দ্র দাস এ ঘটনায় ছিনতাইয়ে জড়িতদের সোর্স হিসাবে কাজ করেছে। বায়েজিদ এলাকার ‘স’ আদ্যক্ষরের এক ব্যক্তির অনুসারীরা এ ঘটনায় জড়িত। ছিনতাইয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার মূল হোতার পরিচয় জানা যাবে।
নগর পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার আমিনুল ইসলাম জানান, হাজারী গলি থেকে তিন ব্যক্তি একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে রবিবার ভোরে অক্সিজেন যাচ্ছিলো। আতুরার ডিপো এলাকায় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণগুলো ছিনতাই হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনতাই হবার কথা জানিয়েছে বাদী। পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও স্বর্ণবারগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
স্বর্ণকার কৃষ্ণ কর্মকার জানান, সারাদেশের মতো তারাও ঢাকার তাঁতী বাজার থেকে স্বর্ণের অলংকার তৈরি করেন। হাজারী গলিতে তার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। তার দোকানের তিন স্বর্ণের কারিগর সবুজ দেবনাথ, পিন্টু ধর ও বিভাষ রায় সাড়ে তিনশো ভরি গলানো স্বর্ণ নিয়ে রবিবার সকালে ঢাকার তাঁতী বাজারে যাচ্ছিলো। অক্সিজেন মোড় থেকে ঢাকাগামী গাড়িতে উঠতে তারা একটি সিএনজি ট্যাক্সি নিয়ে যাচ্ছিলো। তাদের বহনকারি ট্যাক্সি আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে মোটর সাইকেল নিয়ে সাত আটজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ট্যাক্সিটি ঘিরে ফেলে। তারা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কারিগরদের বহনকারী ট্যাক্সিটি হিলভিউ আবাসিক এলাকায় নিয়ে যায়। কারিগররা স্বর্ণ দিতে না চাইলে অস্ত্রধারী চারজনের একজন ফাঁকা গুলি করে। পরে সাড়ে তিনশো ভরি গলানো স্বর্ণ নিয়ে অস্ত্রধারীরা চলে যায়। এ ঘটনায় সবুজ দেবনাথ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এএসআই সুমন চন্দ্র দাস এ ঘটনায় সোর্সের কাজ করেছে এমনটি সন্দেহ করছি আমি। সুমন এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। বায়েজিদ এলাকার ‘স’ আদ্যক্ষরের দাপুটে এক ব্যক্তির অনুসারীরা ডাকাতির এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সুমন চন্দ্র দাস ২০১৯ সালে নগরীর চকবাজার থানায় এএসআই হিসাবে কর্মরত ছিল। সেই সময় এক ব্যক্তিকে আটক করে চাঁদাবাজি করার অপরাধে শাস্তিস্বরূপ তাকে এএসআই থেকে নায়েক করা হয়। থাকতেন পুলিশ লাইনে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ছিনতাই করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর চাকরি থেকে বরখাস্ত হয় করা সুমনকে।
পূর্বকোণ/আরআর