চট্টগ্রাম বুধবার, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সর্বশেষ:

হাদির ‘খুনি’ ফয়সাল কোথায়?

হাদির ‘খুনি’ ফয়সাল কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক

৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১১:১০ অপরাহ্ণ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের তিনটি ভিডিও পরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে।

এসব ভিডিওতে তিনি হাদি হত্যায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। সঙ্গে দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর ভারতে পালিয়ে গেছেন। ফয়সালকে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তা আসলেই ফয়সাল করিমের কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দুবাইয়ে নাকি ভারতে, সে আলোচনাও আছে।

এসব বিষয়ে শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) এক অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

জবাবে প্রথমে তিনি বলেন, “নো কমেন্টস”।

পরে তিনি বলেন, “ভিডিও আমরা দেখেছি; পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বক্তব্য দিব।”

হাদির খুনির পালিয়ে পাশের দেশে চলে গেছে, এমন তথ্য হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসছিল।

ফয়সালকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। গ্রেপ্তার করা হয় তাকে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া ভাড়া গাড়ির চালককেও।

গত ২৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হত্যাকাণ্ডের পরপরই সীমান্ত পার হয়ে মেঘালয়ে যায়। তাদের দুজনকে সহায়তার অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও জানান তিনি।

সেদিন তিনি বলেন, “ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে ঢাকা থেকে সিএনজিতে করে আমিনবাজারে যান। সেখান থেকে মানিকগঞ্জের কালামপুরে ও পরে প্রাইভেটকারে করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান।

“সেখানে ফিলিপ নামে একজন তাদেরকে সীমান্ত পার করে পুত্তির নামে একজনের কাছে হস্তান্তর করে। তারপর সামি নামে আরেক ট্যাক্সি ড্রাইভারের কাছে তাকে দেওয়া হয়। সামি তাদেরকে মেঘালয়ের তুরা শহরে পৌঁছে দেয়।”

পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল সেদিন বলেন, “ইনফরমাল চ্যানেলে আমরা মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পেরেছি, সেখানে তারা পুত্তি ও সামিকে গ্রেপ্তার করেছে।”

তবে সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টা দুই পরেই ফয়সালের ভারতে অবস্থান করা এবং দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ।

মেঘালয় পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাতে সেদিন হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযুক্তদের কাউকেই গারো পাহাড়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং কোনো গ্রেপ্তারও করা হয়নি।”

হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরের সীমান্ত পার হওয়া বা এ ঘটনায় পুত্তি ও সামি নামে দুজনের ভূমিকার পক্ষে কোনো গোয়েন্দা তথ্য, সরেজমিন যাচাই বা অভিযানগত কোনো প্রমাণ নেই বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

মেঘালয় পুলিশের ওই শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, “পুত্তি বা সামি নামে কাউকেই মেঘালয়ের কোথাও শনাক্ত করা যায়নি, খুঁজে পাওয়া বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা যায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো প্রকার ভেরিফিকেশন বা সমন্বয় ছাড়াই এই বিবরণ তৈরি করা হয়েছে।”

এদিকে ভিডিওবার্তায় ফয়সাল করিম দাবি করেছেন, তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তার দুবাইয়ের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ছবিও তিনি ভিডিওতে দেখিয়েছেন।

তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকের পক্ষ থেকে এসব ভিডিওর সত্যতা কিংবা ফয়সালের অবস্থানের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এর পর থেকে প্রায় দিনই শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ গত শুক্রবার হাদি হত্যার বিচারের জন্য সরকারকে তারা ২২ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয়। এর মধ্যে বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয় ইনকিলাব মঞ্চ।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ

পূর্বকোণ/ কায়ছার/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট