
বাকলিয়া এক্সেস রোড প্রকল্পে অবশেষে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ১৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ক্ষতি পূরণ দিতে হচ্ছে না সেই আলোচিত (বাবে ইউসুফ) ১০ তলা ভবনের। তদন্ত কমিটি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) টেকনিক্যাল টিমের সুপারিশক্রমে দুটি ১০ তলা ভবনের মাঝখান দিয়ে যাবে সড়কটি। ফলে ক্ষতিপূরণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে ১৪ কোটি টাকা। নতুন এলাইনমেন্টটি সম্প্রতি সিডিএ’র প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি এবং বোর্ড সভায় অনুমোদন হয়েছে। যা কিছুদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সিডিএ সূত্র থেকে জানা যায়, বাবে ইউসুফ নামের ১০ তলা ভবন এবং ভবনের অনুমোদনের অনিয়ম নিয়ে ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর তদন্ত কমিটি গঠন করে সিডিএ। ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও প্রায় একবছর পর জমা দেয়। ভবনটির পশ্চিমে খালি জায়গায় প্রকল্পের এ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের ব্যাপারে সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী এ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন করা যাবে কিনা, সেটা নিয়ে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল সিডিএ। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে চুয়েটের টেকনিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছিল। টেকনিক্যাল টিম ১০ তলা ভবনকে অক্ষত রেখে এর উভয় পাশে দু’টি রোডের সুপারিশ করে। এরমধ্যে একটি হচ্ছে দুই ১০ তলা ভবনের মাঝ দিয়ে এবং অন্যটি হচ্ছে ভবনের পাশ দিয়ে। দুই ভবনের মাঝ দিয়ে সড়কে একটি বাঁক হবে। আর ১০ তলা ভবনের পাশ দিয়ে গেলে দু’টি বাঁক হবে। ফলে ১০ তলা ভবনের মাঝ দিয়ে সড়কটি নিয়ে গেলে যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ তলা ভবন নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে সিডিএ। তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি এবং বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। চুয়েটের টেকনিক্যাল টিমের সুপারিশক্রমে দুই ভবনের মাঝ দিয়ে সড়কটি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ভবনের কোন ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে না। ফলে সিডিএ’র প্রায় ১৪ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, কিছু দিনের মধ্যে ডিপিপি (ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যান) সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদন হলেই নতুন এলাইনমেন্ট অনুযায়ী কাজ শুরু হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের সময় ভবনের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। তবে ভবনের ক্ষতিপূরণ কেন দিতে হবে তার ব্যাখ্যা চেয়ে মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলে। আমরা একে একে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলাম। ভবন না ভেঙে দুই ভবনের মাঝখান দিয়ে সড়কটি নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করে আমাদের তদন্ত কমিটি। যেখানে চুয়েটের টেকনিক্যাল টিম ছিল।
তিনি আরো বলেন, নতুন এলাইনমেন্ট অনুযায়ী ভবনটি ভাঙতে হচ্ছে না। ফলে ভবনটি অক্ষত থাকায় সিডিএ’র ১৪ কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে না। নতুন এলাইনমেন্টটি সম্প্রতি বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এলাইনমেন্টটি শীঘ্রই আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।
উল্লেখ্য, বাকলিয়া এক্সেস রোডের প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, নগরীর সিরাজুদ্দৌল্লা রোড থেকে পুরাতন বাকলিয়া থানা পর্যন্ত ২২০ কোটি টাকার প্রকল্প বাকলিয়া এক্সেস রোড। নির্মাণাধীন এই সড়কের মাঝে রয়েছে একটি ১০ তলা ভবন। যা প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বাধা। ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভবনটি ভাঙার কথা থাকলেও তা পারেনি সিডিএ। তবে ক্ষতিপূরণ বাবদ ভবন মালিককে প্রায় ১৪ কোটি টাকা দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। নগরীর ডিসি রোড এলাকায় বাবে ইউসুফ নামের ১০ তলা ভবন নির্মাণ করেছে হাজি চান্দমিয়া সওদাগর ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। এতে মোট ৩৬ টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
পূর্বকোণ/এসি