স্মরণের আবরণে আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারি (রহ.)
২৭ রমজান এমন এক পবিত্রতম রাত, যে রাত হাজার রাত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এই রাতে পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং এই রাতেই প্রত্যেক হেকমতপূর্ণ বিষয়ের সিদ্ধান্ত করা হয়।মাইজভান্ডার পরিমন্ডলে এই রাত আরো তাৎপর্যময় হয়ে উঠে কেননা এই রাতে মাইজভান্ডার দরবারের এক দিকপাল আধ্যাত্ম মহাপুরুষ আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারি (রহ.) খোদার জাতে মিশে দীদারে ইলাহী লাভ করেছে।
এই মহান ব্যাক্তি পিতার দিক দিয়ে ছিলেন গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারি (কঃ) এর একমাত্র পৌত্র অছি এ গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারি এর দ্বিতীয় আওলাদ মাতার দিক দিয়ে খলিফায়ে গাউছুল আজম, কুতুবুল আকতাব ইউসুফেসানি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভান্ডারীর (কঃ) এর দ্বিতীয় কন্যা সৈয়দা সাজেদা খাতুনের গর্ভজাত আওলাদ। দুই নূরের বিচ্ছুরিত শক্তিতে জন্ম লাভ করে সৌভাগ্যের উত্তরাধিকারী হয়ে অহমিকা আভিজাত্য ও বংশ গৌরব তাঁকেস্পর্শ করতে পারে নি।
মোন্তাজেম শব্দটির আভিধানিক অর্থ যার উপর সার্বিক পরিচালনার ভার অর্পণ করা হয়,আর আমির অর্থ বাদশা বা নেতৃত্ববান। অছি এ গাউছুল আজম শাহসূফী সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারি (রহঃ) ১৯৫৬ সালে সর্বপ্রথম তার দ্বিতীয় পুত্র সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারি (রহ.) কে দরবার পাকের সকল জিম্মাদারিত্ব ও দায়িত্বভার অর্পণ করে আমিরে মোন্তাজেম লকব দান করেন। তিনি স্বমহিমায়, সদাচরণে,বিনয়ে, পরোপকারীতা ও সহমর্মিতায় সকলের ভক্তি ও শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে ব্যাক্তি থেকে ব্যাক্তিত্বে উন্নীত হয়েছেন।তার পবিত্র কালাম ব্যাক্তি নয় নীতি শক্ত ভিত্তি অর্থাৎ মানুষ হিসেবে কোন বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন কার সন্তান সেটা বড় নয়,বড় তার সুমহান কীর্তি। তার জীবনের প্রতিটি স্তরে স্তরে নীতি নৈতিকতা চরিত্রের অনুপম মাধুর্য করে তুলেছেন। মাইজভান্ডার পরিমন্ডলে সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারির সামাজিক কর্মকাণ্ড, সুন্দর ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীলতা, দরবারের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিহাসের দর্পনে এক অতুলনীয় কিংবদন্তি মহাপুরুষ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন।আমিরে মোন্তাজেম মানে সপ্তনীতির পূর্ণ প্রতিচ্ছবি,আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভান্ডারি হওয়ার অনুপ্রেরণা দান কারী ও আদর্শের অনন্য প্রতীক। নীতি ও নৈতিকতাই ভাব ও দর্শনে, চলনে ও কথনে মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারি ছিলেন তাঁর পিতার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি। যারা অছিয়ে গাউছুল আজমকে দেখেছেন,কাজ করেছেন, তারা প্রত্যেকেই অছিয়ে গাউসুল এর খুশবু আমিরে মোন্তাজেম এর মধ্যে পেয়েছেন।আমিরে মোন্তাজেম দরবার পরিমন্ডলে পিতার পর এমন ভাবে সকল কাজ সম্পাদন করতেন যেন,পিতার সাক্ষাত তত্তাবধানে ও নির্দেশে এ সকল কাজ করছেন।
তিনি ছিলেন খেলাফতে রব্বানী বা উলুহিয়তের প্রতীক বা খোদায়ী প্রতিনিধি। একজন খোদায়ী প্রতিনিধির জীবন দর্শন শুরু হয় আদব ও ইখলাসের মধ্যে দিয়ে আর শেষ হয় দীদারে ইলাহীর মাধ্যমে আত্মদর্শন দিয়ে।আমিরে মোন্তাজেম শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারি ১৯৫৫ সালে তাঁর পিতার নির্দেশে চট্টগ্রাম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে এইচ এস সি তে অধ্যয়ন কালে লেখাপড়ার ইতি টেনে জাগতিক সব আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলি দিয়ে মাইজভান্ডার শরাফতের বিশাল জাহাজের পিতার সহযোগী কান্ডারী হিসেবে পদার্পণ করেন।আশেকে অছি এ গাউছুল আজম মুনিরুল হক মাইজভান্ডারির একনিষ্ঠ সহযোগী ও কার্য সম্পাদক জনাব হারুন অর রশীদ ভান্ডারীর ভাষায় –
“দরবারের কাজকারবারে কে লইবে এই জিম্মাদার
মহান পিতার আদেশক্রমে করিলেন কবুল
হযরতের প্রেমরাজ্যে মওলা মুনির আছেন চার্জে
কাজকর্ম রীতিনীতি, প্রেম বিতরণের মারফতে।”
১৯৫৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ বছর পর্যন্ত উদার ও সাহসীকতার মধ্যে দিয়ে সামাজিক, সাংগঠনিক ও আধ্যাত্মিক সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য সুশৃঙ্খলভাবে সম্পাদন করেছেন।কোন প্রকার জাগতিক লোভ লালসা, ভোগ বিলাস,কামনা বাসনা তাঁর মনকে বিচলিত করতে পারেনি।সপ্তকর্ম ও গাউছিয়ত নীতিকে তিনি যেমন পুং্খানুপুং্খভাবে পালন করেছে, ঠিক তেমনি ভক্ত জায়েরিন ও তাঁর আওলাদদের ও নীতির বিরুদ্ধে না যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারি কার্যে ও দরবারের এন্তেজামে আত্মনিবেদিত। জনাব হারুন অর রশিদ ভান্ডারী বর্ননা করেন-একদিন একব্যাক্তি ৫ লক্ষ টাকার বাণ্ডেল এনে আমিরে মোন্তাজেম এর হাতে অর্পণ করে বলেন, এগুলো যাকাতের টাকা আমি নিয়ে এসেছি দরবারের উন্নয়নমূলক কাজে লাগানোর জন্য।আমিরে মোন্তাজেম তাৎক্ষণিকভাবে ঐ টাকা ফেরত দিয়ে বলেন,গাউছুল আজমের দয়ায় সারা বিশ্ব চলে যেখানে,সেখানে যাকাতের টাকায় গাউছুল আজমের দরবারের কাজে লাগাতে পারব না।আপনার পাড়াপ্রতিবেশির আপনার উপর হক আছে।আপনি এই টাকা দিয়ে আপনার এলাকায় সাহায্য সহযোগিতা করুন,এটাই উত্তম।
মাইজভান্ডার দরবারে কেউ শাদী মোবারক বা আকদ্ সম্পাদনের অনুমতি নিতে গেলে বলতেন,”আপনার পার্শবতী ইমাম এর হক আগে, এই কাজে আপনার নিকটবর্তী মসজিদের ইমামের হক আছে।এটা আদায় করা জরুরি।
মাওলানা রুমির ‘মছনবীতে খেলাফতে রব্বানী বা খোদায়ী প্রতিনিধির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,”যারা হেকারত হিংসা, অবাধ্য প্রকৃতি,প্রবৃত্তি হইতে মুক্ত, খোদায়ে জ্ঞান জ্যোতি আহরণকারী ব্যক্তিই ফজিলতে রব্বানী তথা খোদার প্রতিনিধিত্বকারী। ‘বেলায়তে মোতলাকা’ কিতাবে উল্লেখ আছে, “উত্তেজনা পরিহারি ও ধর্মসাম্য উন্নয়নকারী, খোদা অনুসন্ধিৎসু মানবের দিশারি ব্যাক্তি যার ব্যক্তিত্ব হাছেল আছে তিনি খেলাফতে রব্বানী বা খোদায়ী প্রতিনিধিত্বকারী। আমিরে মোন্তাজেম সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারির পুরোটা জীবন অতিবাহিত হয়েছে প্রবৃত্তিকে নিবারন করে ধৈর্য, এরাদা আনুগত্যশীলতা ও খোদায়ী জ্ঞান আহরণের মধ্য দিয়ে। বিনয়, আদব ও ইখলাস ছিল তার চরিত্রে মূল খুটি। তার নিকট কোন ভক্ত জায়েরিন আসলে তাদের বলতেন, ” মুনিব মেহেরবানি করুক, ছবরে এক্তেয়ার কর, মুনিব সফলকাম করবেন। দুনিয়াবি সকল শিক্ষাকে বিসর্জন দিয়ে মাইজভাণ্ডার আধ্যাত্ম শরাফত রক্ষায় পিতার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে করতে এক সময় তিনি হয়ে উঠেন এই বিশাল তরীর এক বিজ্ঞ নাবিক ও সাহসী কান্ডারী। তার চিন্তা চেতনা ধ্যান ধারণা ইচ্ছা এরাদা সবই মুনিবের কদমে সপে দিয়ে পীরে ফায়াল হয়ে গেছেন, জোর কদমে, দোহাত করজোড় করে মুনিবের পানে চেয়ে থাকতেন। গাওছে পাক এর কদম ছেড়ে এক মুহুর্তের জন্য কোথাও যাননি। পিতার মতো সায়েরে পীরকে বর্জন করেছেন অকপটে। প্রকৃত অলি আল্লাহ তিনিই যার সোহবতে আসলে মানুষ চারিত্রিক সৌন্দর্য খুজে পায়। আল্লাহ ভীতি মনে জাগে এবং আল্লাহর কথা স্মরণ হয়। কেরামত, কুদরত প্রকাশ অলি আল্লাহর বৈশিষ্ট্য নয়। এটি অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রকাশ হয় মাত্র। আমিরে মোন্তাজেম এর কার্যে সহযোগী ও একনিষ্ঠ সেবক হারুন অর রশিদ ভান্ডারী বর্ণনা করেন-
বুড়িশ্চরনিবাসী আব্দুল খালেক নামক ব্যাক্তি ৮/১০ জনকে সাথে নিয়ে দরবারে জেয়ারতে আসেন।মেজহুজুর যথারীতি তাদেরকে দরবারের তবারুক খেয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ঐ ব্যাক্তি না বুঝে বলে ফেলেন যে আমরা নাজিরহাট হোটেলে গিয়ে খাব।কিন্তু দুঃখের বিষয় দরবার থেকে কিছুদূর রওনা হতেই তাদের এমন খিদে পেয়ে গেলো যে নাজিরহাট পর্যন্ত যাওয়ার আর শক্তি হয় না ফলে তারা আবার দরবার অভিমুখে যাত্রা করেন এবং মেজ হুজুর সহাস্যে তাদেরকে সুন্দর করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বললেন। সেই আব্দুল খালেক পরবর্তীতে মেজ হুজুরের ভক্ত ও একনিষ্ঠ দরবারী হয়ে উঠেন।
তাঁর হৃদ্যতা, সুমিষ্ট বচন ও উদার দৃষ্টিভংগী মাইজভাণ্ডার এর প্রতি মানুষের আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। তিনি নিজে যেমন জ্ঞান সাধনা করতেন অপরদিকে মাইজভাণ্ডার শরাফত নিয়ে দেশ বিদেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠে গুলোতে গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করে দেন।তাঁর সহোদর শাহসূফী সৈয়দ সহিদুল হক মাইজভাণ্ডারি (মা.জি.আ.)কে সাথে নিয়ে পিতা অছি এ গাউছুল আজম এর স্বপ্ন ও ইচ্ছা পূরণে “মাসিক জীবনবাতি” কে একটি নিয়মিত ও আকর্ষণীয় পত্রিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
মহাসাগররুপী মাইজভান্ডার ত্রান ভান্ডার থেকে আমিরে মোনতাজেম শাহ সুফি সৈয়দ মনিরুল হক মাইজভান্ডারি মনি মুক্তা জহরত দুই হাতে বিলিয়েছেন। যার জাগতিক প্রয়োজন তাকে জাগতিক, যার আধ্যাত্মিক প্রয়োজন তাকে আধ্যাত্মিক, কেননা তিনি ছিলেন গাউছিয়াত সরকারের বিশ্ব মোন্তাজেম। তাই বিশ্বমানবতার মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে মৌলিক মানবীয় চিন্তা সুস্পষ্ট বিকাশ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং বেলায়তে মোতলাকার মহা হেকমত বিতরণে ওছিয়ে গাওছুল আজমের পাশে আমিরে মোন্তাজেম এর নাম সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে। হারুন -অর – রশিদ মাইজভাণ্ডারির ভাষায় বলতে হয়,”আহম্মদী মওলা হুসাইন নিত্য অবস্থান মুনিরুল হক মাইজভান্ডারি আছেন অনির্বাণ, দেলা ময়নার নির্বাচিত আহমদ উল্লাহর মনোনীত বিশ্ব অলীর সেবায় রত দীপ্ত আগুয়ান।
আমিরে মোন্তাজেম জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে হযরতের শানে অছি এ গাউছের শানে এমন ভাবে ওয়াকফ করে গেছেন তা ক্ষুদ্র পরিসরে সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ উপস্থাপন করা অসম্ভব। বড় ভাই শাহেনশাহে সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারির সাথেও তাঁর সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য।তিনি সবসময় ভাববিভোর অবস্থায় থাকতেন এবং বিভিন্ন সময় লোকচক্ষুর সম্মুখে বিভিন্ন ধরনের আচরণ করতেন। এ অবস্থায় তাঁকে দমানো ছিল অসম্ভব। এই অসম্ভব কে সম্ভব করতেন আমিরে মোন্তাজেম। মেজ হুজুর বয়সে ছোট হলেও শাহেনশাহে জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি মেজো দাদা বলে সম্বোধন করতেন। যে কোন কথা বা কাজ মেজো দাদা বলেছেন কি না তিন বার জিজ্ঞেস করতেন।উভয়ে উভয়কে সম্মান দিয়ে বিনয়ের সাথে কথা বলতেন কেননা রতনে রতন চিনে। শাহসূফী সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারির মহাযাত্রা তথা মৃত্যু বা ওফাতের সময় আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার জীবন শুরু হয় ইখলাসে শেষ হয় দীদারে ইলাহীতে, লাইলাতুলকদর রাতে, জুমাতুল বিদাতে এবং ইংরেজি সন ২০০৬ মিশেছে হযরত কেবলার ওফাত বর্ষ ১৯০৬ এর সাথে। ২৭ রমজান মিশেছে হযরতের ওফাত দিবস ২৭ শে জিলকদের সাথে। এমনই পবিত্রতম দিনে মহা সমারোহে যাত্রা করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার জ্যোতি হাসর পর্যন্ত কিভাবে অনির্বাণ দ্বীপ রূপে বিরাজমান থাকবে মাইজভান্ডার পরিমণ্ডলে তথা বিশ্বমানবতার বেলায়তের স্বরূপ বিকাশে। গাউছিয়াত নীতির শীর্ষক ঘোষণাপত্রের শেষাংশে বলা হয়েছে”গাউছিয়ত নীতিহীন বিমুখ ব্যক্তির মাইজভান্ডারি অনুসারী দাবি করা চলে না।মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারির জীবন থেকে আমরা একটাই শিক্ষা পাই নীতিকে আঁকড়ে ধরতে না পারলে জীবন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে কেননা কীর্তিমানের মৃত্যু নাই নীতির কোন বিকল্প নেই। গাউছুল আজম কোন ব্যক্তি বিশেষ নয় যে তার জীবন দর্শন শেষ হয়ে যাবে, এটি এমন এক আজমিয়ত সত্তা যা যুগে যুগে অনির্বাণ।যে এই গাউছিয়ত নীতি আকড়ে ধরবে গাউছুল আজম তার সাথে থাকবে। পরিশেষে একটা কথাই স্বীকার্য মেজ হুজুর আমাদের সাথে সব সময় বর্তমান।আমরা যদি তাঁর নীতি নৈতিকতাকে আঁকড়ে ধরি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হই তবে তার স্মরণে এই ওরশ ফাতেহা সার্থক হবে। আশেকে মুনিরুল হক মাইজভাণ্ডারি হারুন অর রশিদ ভান্ডারীর ভাষায় —
মুর্শিদ প্রেম যার অন্তরে মুনির মাওলা তার ভেতরে
রঙ বাজারে,রং তামাশা,ছেড়ে যাবে সকল আশা
কেবল মুর্শিদ ভালোবাসা রাখো সবার সাথেরে।
মুনির মওলার প্রেম চোখে বিশ্ব ভ্রমণ এক পলকে
হারুন কয় দেখল যারা ভবে তাঁর জীবন সার্থক।
মহামুনিব মুনিরুল হক মাইজভান্ডারির উছিলায় আমাদের জীবনকে নীতি নৈতিকতায় পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুক।
সহকারী শিক্ষক, (ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া কামিল মাদ্রাসা)
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ