চট্টগ্রাম সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪

আজ ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন

রায়হান আজাদ

১ এপ্রিল, ২০২৪ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

দেখতে না দেখতে রমজান মোবারকের দুই দশক চলে গেছে। আজ থেকে ৩য় দশক নাজাত পর্বের মেহনত শুরু হলো। আজ ২১ রমজান, ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন। মক্কা বিজয় ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবজনক অধ্যায়।

 

মক্কা হল পৃথিবীর প্রাচীনতম নগরী ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র- যা আবাদ করেছিলেন সাইয়েদুনা হযরত ইবরাহীম (আ.)’র পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)। হযরত মুহাম্মদ (দ.)’র জন্মস্থান মক্কায় ইসলামের রাজনৈতিক বিজয় সূচিত হয় ৮ম হিজরির পবিত্র রমজান মাসে। রমজানুল মোবারকের ১০ তারিখ মহানবী মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ হতে ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। এ যাত্রায় মরুভূমির তীব্রতায় ছিল না কোন উপযোগী সমরাস্ত্র, সেনা ছাউনি কিংবা যানবাহন। ২৮০ মাইলের পথ পাড়ি দিয়ে মহানবী মক্কার সন্নিকটে ‘মার-উয-যাহরান’ নামক গিরি উপত্যকায় যাত্রা বিরতি করেন। এখানে মক্কার কুরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ান তার দুই সহচরসহ উপত্যকায় গুপ্তচরবৃত্তি করতে এসে সাহাবিদের হাতে ধরা পড়েন। সাহাবিগণ তাকে মহানবীর কাছে নিয়ে গেলে এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম কবুল করেন। মহানবীর চৌকস রণ কৌশলে পরদিন সাহাবিগণ অনেকটা বিনা বাধায় বিজয়ী বেশে মক্কা নগরীতে প্রবেশ করেন।

 

মক্কা বিজয়ের সত্যায়নে আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,“ আল্লাহ তাঁর রসুলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আল্লাহ চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুণ্ডন অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তিনিই তাঁর রসুলকে হিদায়াত ও সত্যধর্মসহ প্রেরণ করেছেন। যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহই যথেষ্ট। (সুরা আল ফাত্হ: আয়াত ২৭-২৮) মহানবী মক্কায় প্রবেশ করেই বায়তুল্লাহ শরীফের দিকে রওয়ানা হন আর আদেশ দেন কাবা শরীফকে ৩৬০টি মূর্তি থেকে পবিত্র করার জন্য এবং সে আদেশ অতি দ্রুত কার্যকর হয়। কারণ নবীর বাণী হলো, “বুয়িছতু লি কাছরাতিল আছনাম”- আমি প্রেরিত হয়েছি মূর্তি ভাঙার জন্যেই”। মূর্তি অপসারিত হলে নবীজী কাবা শরীফে ঢুকে সালাত আদায় শেষে উপস্থিত মক্কাবাসীদের উদ্দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন,“তোমাদের বিরুদ্ধে আজ আর আমার কোন অভিযোগ নেই। যাও, তোমরা মুক্ত। ”।

 

সত্যিই মহানবীর মক্কা বিজয় দেশ বিজয় নয়, একটি আদর্শের বিজয়। এ বিজয়ে প্রমাণিত হল ইসলাম সত্য ধর্ম। ইসলাম ধর্মে মূর্তি-ভাস্কর্যের কোন স্থান নেই। এ ধর্মে অত্যাচার-অবিচারের পর বিজয় অনিবার্য। আল্লাহ পাক আমাদেরকে পেয়ারা নবীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্বীনে হকের উপর টিকিয়ে রাখুন। আমিন।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট