চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২২ জানুয়ারি, ২০২৩ | ৭:৫২ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে হাদিসে যা বলা হয়েছে

দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা মানুষকে কুরে কুরে খায়। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাহ্যত করে। কষ্ট ও চাপা যাতনার জগদ্দল পাথর বুকে বসিয়ে দেয়। এছাড়াও নানাবিধ অসুখ-বিসুখও তৈরি করে। তাই দুশ্চিন্তা ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে দূরে থাকা চাই।

এই মানসিক অবসাদ শরীরকে বিষিয়ে তোলে। মন প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখো, মানুষের শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, যখন তা ঠিক থাকে, তখন সমস্ত শরীর ঠিক থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায়, তখন সমস্ত শরীর খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখো, সে গোশতের টুকরোটি হলো কলব বা হৃদয়।’ সহিহ্ বোখারি : ৫২

হাদিসে ব্যবহৃত কলব শব্দ দ্বারা গোশতের টুকরো অর্থাৎ হৃদয় উদ্দেশ্য। কোরআনে কারিমে ব্যবহৃত কলবের অর্থও করা হয় হৃদয় দ্বারা। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘তাদের হৃদয়ে রোগ আছে।’ সুরা বাকারা : ১০

দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতার বড় একটি কারণ বলা হয়েছে দুনিয়াপ্রীতিকে। হাদিসে একে মানুষের বড় শত্রু বলা হয়েছে।

যারা দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে, মহান আল্লাহ তাদের মন থেকে প্রশান্তি তুলে নেবেন। তাদের জীবন থেকে বরকত তুলে নেবেন। ফলে সে দুনিয়া ও আখিরাত দুটিই হারাবে।

আবান বিন উসমান থেকে বর্ণিত, জায়দ বিন সাবিত (রা.) দুপুরে মারওয়ানের কাছ থেকে বের হয়ে এলে আমি ভাবলাম, নিশ্চয়ই কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানার জন্য এ সময় তিনি তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আমাদের শ্রুত কতক হাদিস শোনার জন্য মারওয়ান আমাদের ডেকেছেন। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন, দারিদ্র্য তার নিত্যসঙ্গী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে, যতটুকু তার তকদিরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে আখিরাত, আল্লাহ তার সব কিছু সুষ্ঠু করে দেবেন, তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাজির হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১০৫)

নবীজির এই হাদিসে উম্মতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। কাজকর্মে অস্থিরতা, দারিদ্র্য মানুষের নিত্যসঙ্গী। মানসিক প্রশান্তির জন্য মানুষ কত কিছু করে, কিন্তু শান্তি কিছুতেই ধরা দেয় না। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় নবীজি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বাতলে দিয়েছেন।

দুনিয়ার প্রতি আসক্তি থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন আল্লাহর রাসুল। এবং অল্পে তুষ্ট থাকার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ কাঙ্খিত বস্তু অর্জিত না হলেও অল্প তুষ্টি মানুষকে বিষন্নতা থেকে মুক্ত রাখতে সহায়তা করবে।

পূর্বকোণ/সাফা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট