চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩০ মে, ২০২৩

২৫ এপ্রিল, ২০২৩ | ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

পটিয়া সংবাদদাতা

মৃত্যুর আড়াই মাস পর আদালতের রায়ে নওমুসলিম আহমদের লাশ দাফন

পটিয়ায় তেলবাহী ট্যাংকলরি-বাইক সংঘর্ষে নিহত বাইক আরোহী আহমদ (২৯) নামে এক নওমুসলিম যুবকের মরদেহ দীর্ঘ আড়াই মাসের বেশি সময় হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকার পর সোমবার (২৪ এপ্রিল) ইসলামী শরীয়তাবেক দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

নিহত আহমদের (পূর্বের নাম রতন দাশ) ধর্মপরিচয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আজ আদালতের রায়ে তার নামাজে জানাজা শেষে নগরীর চৈতন্য গলিস্থ ২২ মহল্লার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিশ্বেশ্বর সিংহ নিহত নওমুসলিম আহমদকে ইসলামী রীতি মোতাবেক দাফনের পক্ষে রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। তিনি জানান, সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালত রায় দিয়েছেন নিহত নওমুসলিম আহমদের লাশ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক কবরস্থ করার জন্য। এর প্রেক্ষিতে নিহত নওমুসলিম আহমদের লাশ তার ধর্মীয় শিক্ষক আকরাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে নগরীর চৈতন্য গলিস্থ ২২ মহল্লার কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে।

নিহত যুবকের বন্ধু আজিম খান জানান, ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর মাওলানা মুফতি হারুন ইজহারের মাধ্যমে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমদ। এরপর ১৭ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নোটারি পাবলিক করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এতে তার পূর্ব নাম রতন দাশ পরিবর্তন করে ‘আহামদ’ রাখা হয়। এরপর থেকে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন ও ইসলাম ধর্মের সব নিয়ম-কানুন মেনে চলতেন।

উল্লেখ্য, আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিড করে এবং কালেমা পড়ে স্ব-ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে পটিয়া উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় তেলবাহী ট্যাংকলরির চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী আহমদের মৃত্যু হয়। তখন নিহত যুবকের মা সন্ধ্যারানী দাশ দাবি করে আসছেন তার ছেলে রতন দাশ হিন্দু ছিলেন। তাই হিন্দু ধর্মের নিয়ম মেনে শেষকৃত্য চিতায় সম্পন্ন করতে চান। কিন্তু তার সহপাঠীদের দাবি রতন দাশ তার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছে। তাই তার দাফন করা হবে।

যুবক আহমদের শেষ যাত্রা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টির কারণে মৃত্যুর পরদিন ৩০ জানুয়ারি পটিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মার্চের ১৩ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৩ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি হাইওয়ে থানা পুলিশ। সেদিন তারা আবারো অধিকতর তদন্তের জন্য সময়ের আবেদন করে আদালতে একটি চিঠি দিয়েছেন। পটিয়া হাইওয়ে পুলিশের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত গত ২০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির এ নির্দেশ দেন। কিন্তু ২০ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে এই দিন ছুটি থাকার কারণে সেদিন আদালত বন্ধ থাকায় সোমবার (২৪ এপ্রিল) উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আদালত দাফনের নির্দেশ দেন।

নিহত যুবক আহমদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পূর্ব মায়ানী গ্রামে। তার বাবার নাম মনোরঞ্জন দাশ ও মায়ের নাম সন্ধ্যা রানী দাশ। আহমদ নগরের ডবলমুরিং থানাধীন মগপুকুর পাড় বত্রিশ কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং “হ্যালো বিডি” (মোবাইল ফোন) কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দুপুর দুই টার দিকে পটিয়ায় মার্কেটিং ভিজিট শেষে ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার মনসা বাদামতল চেয়ারম্যান কুমারের বাড়ির ঘাটা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট