চট্টগ্রাম সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ইকবাল মুন্না, সাতকানিয়া

ফসলি জমির টপ সয়েল ট্রাকে ট্রাকে যাচ্ছে ইটভাটা, বসতভিটায়

শীতের মৌসুম ফসলি জমি কেটে পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞের যেন সঠিক সময়। ফসলি জমির মাটি কেটে দিঘি, আর পাহাড় কেটে সমতল। সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শুরু হয় মাটি খেকোদের বাণিজ্য। জমি ও পাহাড়ের মাটি কেটে ভরাট করা হয় বসতভিটা, আবার অধিকাংশ মাটি যায় ইটভাটায়। এমনকি সরকারি কাজেও। মাটি কেটে সাবাড় করে দেয় উপজেলার ফসলি জমি।

 

দেখা যায়, উপজেলার ছদাহা ইউনিয়ন, ঢেমশা ইউনিয়ন, এওচিয়া ইউনিয়ন, সাতকানিয়া পৌর এলাকা, কেওঁচিয়া কালিয়াইশ, নলুয়া ইউনিয়ন, সোনাকানিয়া ইউনিয়ন, মাদার্শা ইউনিয়নে দিনরাত চলে মাটি কাটার মহোৎসব। বিগত সময় উপজেলা প্রশাসন বারবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও কোন সুরাহা মিলেনি। রাজনৈতিক দলের মদদে এসব ব্যবসা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

 

তারা বলেন, এসব মাটির ৬০ ভাগ বিভিন্ন ইটভাটায় যায়। আর বাকি অংশ আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবন ও প্লট ভরাটের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এইভাবে মাটি কাটলে ভবিষ্যতে কোন উৎপাদনের অবস্থা থাকবে না। এলাকাজুড়ে চলছে মাটিকাটার নামে পরিবেশের ধ্বংসযজ্ঞ। এভাবে মাটি কাটার ফলে ফসলি জমি, সড়ক, ও ফসলের ক্ষতিসহ পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

 

এদিকে, ফসলি জমি থেকে ৮-১০ ফুট গর্ত করে ভেকুর সাহায্যে মাটি কাটা হয়। আবার মাটি গুলো মূল সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হয়। অধিকাংশ সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক মাটির টুকরো পড়ে কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়ে যায়, এতে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ফলে পুষ্টি উপাদান কমে যায় এবং ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকে। এভাবে উর্বর মাটি নষ্ট হলে কৃষির উৎপাদন বিপর্যয়ে পড়বে। শীতের মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দিনে রাতে শত শত ডামট্রাক-ট্রাক্টরে করে মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

 

মাটি বহনকারী কয়েকজন ট্রাক চালক বলেন, আমাদের কাজ ড্রাইভারি, আমরা সেটা করি। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাটি কাটা চললেও আটকের ভয় থেকে যায়। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ধরলে কেউ ছাড়াতে আসেন না। প্রশাসনের অভিযান চললে, আবার অভিযান শেষে বিকেলের দিকে শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত মাটি কাটা চলে। আর অভিযান না থাকলে দিনে-রাতে সমানভাবেই চলে।

 

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, যে মাটিগুলো বিক্রি হয় সেগুলো মূলত টপ সয়েল, যেটি হতে ২’শ বছর সময় লাগে। এগুলো কেটে ফেলায় জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। আর জমি গুলো আগের অবস্থায় আসতে আরো ২’শ বছর লাগবে।

 

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ জোহরা বলেন, মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা যেখানে মাটি কাটার খবর পাই সেখানেই মোবাইল কোর্ট করি এবং জব্দ জরিমানা করি। জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন কোন প্রকার মাটি কাটার অনুমতি দেয় না, আমরা ফসলি জমি রক্ষায় এবং মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছি এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট