চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩

২১ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

শাহজাহান কবির সাজু,পানছড়ি

পানছড়িতে শীত উপেক্ষায় নারীদের জীবিকার সংগ্রাম

পাহাড়ের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকালে জীবিকার সংগ্রামে নেমে পড়ে পাহাড়ি এলাকার নারীরা। এদের মধ্যে যেমন আছে বয়োবৃদ্ধ, তেমনি তরুণী, এমনকি কলেজের শিক্ষার্থীও রয়েছে।

সরেজমিনে চেঙ্গী নদীর হাঁটুজল বেয়ে বালুর চরে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য নারীর সঙ্গে মূলা ধোয়ার কাজে ব্যস্ত পানছড়ি সরকারি কলেজের ডিগ্রির প্রথম বর্ষের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আইভি চাকমাও। সে উপজেলার ৩ নং পানছড়ি ইউপির কানুনগোপাড়া এলাকার অমলেন্দু চাকমা ও বিথীকা চাকমার মেয়ে। পাহাড়ের কনকনে শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করেই প্রতিদিন সকালে জীবিকার সংগ্রামে কাজে ছুটে আসে বলে জানায় আইভি।

আলাপকালে জানায়, দৈনিক তিনশত টাকা বেতনে মূলা ধোয়ার কাজ করছে। তার রোজগারের টাকা দিয়েই ছোট বোন বেবি চাকমার পড়া-লেখার খরচও চলে। বেবি পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা-মা দু’জনেই বয়োবৃদ্ধ। তারাও শ্রমিকের কাজ করে। শ্রমিকের কাজের ফাঁকে ফাঁকে আইভি সেলাই কাজও রপ্ত করে নিয়েছে। একখানা সেলাই মেশিন কেনার শখ রয়েছে তার। এলাকায় কাপড় সেলাই করলে আয়-রোজগার খারাপ হবে না বলে জানায় সে।

 

তবে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মেশিন কেনা কখন হবে, তা অনিশ্চিত। মাটি কাটা, ধানের চারা রোপণ, জঙ্গল থেকে লাকড়ি কাটা ও ধান কাটায়ও সে পারদর্শী বলে জানায়। অর্থের জন্য শ্রমিকের কাজ করা তার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার জানিয়ে বলে, শীত মৌসুমে মাসের অধিক সময় চলবে চেংগী নদীতে ভোর-সকাল থেকে মূলা ধোয়ার কাজ।

কানুনগোপাড়া এলাকার মূলা চাষি বিমলেন্দু চাকমা ও কামাল হোসেন জানায়, আইভি খুব পরিশ্রমী। কাজে তার কোন অলসতা নেই। শ্রমিকের কাজ করে মেয়েটি মা-বাবাকে দেখে, নিজে পড়ে আর ছোট বোনের পড়ালেখার খরচও চালায়। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সে অনুকরণীয় বলে জানালেন তারা।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা বড়ুয়া জানান, আইভি যদি ইচ্ছে করে পানছড়ি মহিলা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেলাই কাজ আরো ভালোভাবে শিখে একটি সনদ সংগ্রহ করতে পারে। উদ্যোক্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার ব্যাপারে অধিদপ্তর তাকে সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট