চট্টগ্রাম রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৭ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড

শুকলালহাটে রেলব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার পরে শিবপুরে সন্মুখযুদ্ধ

পাঞ্জাবি সৈন্যদের গতিরোধ করার জন্য শুকলালহাটে রেলওয়ে ব্রিজ উড়িয়ে দিতে তিন বার বিস্ফোরক ব্যবহার করেও ব্যর্থ হই। চতুর্থবারের চেষ্টায় আমরা সফল হয়েছি। এতে পাঞ্জাবিরা ঢাকা বা চট্টগ্রাম অভিমুখে যেতে বড় বাধার মুখে পড়ে। এর কয়েকদিন পরেই পৌরসভার শিবপুর গ্রামে পাক সৈন্যের সাথে সন্মুখ যুদ্ধ হয় আমাদের। ১৯৭১ এর মুুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ তথ্য জানান সীতাকুণ্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক লাল বড়ুয়া। তিনি পৌরসভাধীন আমিরাবাদ গ্রামের মৃত বগলা ভুষণ বড়ুয়ার পুত্র।

 

সীতাকুণ্ড মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স রক্ষণাবেক্ষণ ও আবাসন প্রকল্পের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক লাল বড়ুয়া বলেন, ৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তিনি সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। মে মাসের দিকে তিনি, সহপাঠী রফিকুল ইসলাম, প্রকৌশলী মাসুক এলাহীসহ ৩২ জনের একটি দল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবার লক্ষে ট্রেনিং নিতে ভারতে চলে যান। সেখানে ত্রিপুরায় অম্পিনগর ক্যাম্পে এক মাসের গেরিলা ট্রেনিং শেষে জুনের মাঝামাঝি সময়ে দেশে মিরসরাইয়ের আবু তোরাব এসে পৌঁছান। পরে সীতাকুণ্ডের বগাচতর এসে পৌঁছান।

 

জুলাইয়ের মাঝামাঝি তারা পাক সৈন্যদের গতিরোধ করতে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড শুকলালহাটের রেলব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। সে জন্য বেশ কিছু বিস্ফোরক নিয়ে তারা ১৫ জনের একটি দল অবস্থান নেন। কিন্তু তখনো বিস্ফোরকের ব্যবহার খুব ভালোভাবে না জানায় তিন বার চেষ্টা করেও ব্রিজটি উড়াতে পারেননি তারা। তবে চতুর্থবারের চেষ্টায় ব্রিজটি উড়িয়ে দিতে সক্ষম হলে রেলপথে ঢাকা ও চট্টগ্রামে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় পাঞ্জাবিদের। এতে পাঞ্জাবিরা বাড়িঘরে হামলা দিতে শুরু করে।

 

একদিন পৌরসভার শিবপুর গ্রামে হঠাৎ পাঞ্জাবিদের মুখোমুখি হয়ে যান তাদের মুক্তিযোদ্ধা দল। এসময় উভয় পক্ষ সন্মুখ যুদ্ধে গোলাগুলি শুরু করলে দুই পথচারী একজন কৃষক ও একজন জেলে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এরপর একদিন সীতাকুণ্ড বাজারের পরিস্থিতি দেখতে আসেন তিনি। সেখানে রাজাকার দেলু মানিক লাল বড়ুয়াকে দেখেই ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে পরপর চারটি গুলি করলেও দৌঁড়ে কোনরকম আত্মরক্ষা করেন। শেষে ভারত স্বীকৃতি দেয়ার পর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধামনিক লাল বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। এখন তার একটিই চাওয়া যে উদ্দেশ্যে দেশের স্বাধীনতা তা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট