চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৩ ডিসেম্বর, ২০২২ | ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

জাহেদুল আলম, রাউজান

জেডএলসির সামরিক লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে লে. জেনারেল সাবেদ সিংহের সাথে কাজ করেছি

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব বর্তমানে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য। ৬৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমএ পাস করেন। আবদুল ওহাব ২৮ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেন। তখন তিনি রাউজান থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে তিনি এ তথ্য জানান।

 

কাজী আবদুল ওহাব বলেন, ১৯৬৫ সালে তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম জেলার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। ওই বছর ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সম্মেলন ছিল। তিনি বলেন ‘সম্মেলন শেষে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করতে যাই ৩২ নম্বর বাড়িতে। ৬৯ সালের ২৮ এপ্রিল মুজিব রাউজান কলেজ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন। তখনও তার সাথে বৈঠক হয়।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহাব বলেন, ২৫ মার্চ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। এরপর প্রতিরোধ হিসেবে বাঙালি ইপিআর অফিসার, সৈনিকদের রাউজানে একত্রিত করি। তাদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঠাই। ৫ এপ্রিল চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ এলাকা পাক আর্মিদের দখলে চলে যায়। ৭১ সালের ৭ এপ্রিল খবর পাই, কাপ্তাই থেকে পাক আর্মি অগ্রসর হচ্ছে।

 

এ খবর পেয়ে রাউজান আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ প্রতিরোধের জন্য পুলিশসহ বর্তমান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গোদারপাড়ে তাদের ঘেরাও করি। আমাদের প্রতিরোধে পাক বাহিনী ঠিকতে না পেরে লে. কর্নেল আবদুল আজিজ শেখ, মেজর ইকবাল, একজন ক্যাপ্টেন, ৬ জন সৈন্য, একজন জে.সি.ও আমাদের কাছে প্রথম আত্মসমর্পন করে। আমরা তাদের নিয়ে নাজিরহাট অবস্থানরত ইপিআর’র তৎকালীন ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিনের কাছে যুদ্ধবন্দী হিসেবে হস্তান্তর করি।

 

১৩ এপ্রিল পাকবাহিনী ও রাজাকাররা রাউজান দখল করে। আমরা সংঘবদ্ধ হয়ে ভারতে প্রবেশ করি। ২০ দিনের ট্রেনিংশেষে আমরা মেজর জিয়াউর রহমানের রামগড় হাই স্কুলের ৮ম রেজিমেন্টটে রিপোর্ট করি। সর্বপ্রথম শুভপুর ব্রিজ এলাকায় জিয়াউর রহমান ও ক্যাপ্টেন জাফর ইমামের নেতৃত্বে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিই। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ির গুইমারার কাদেরের নেতৃত্বে যুদ্ধে অংশ নিই। সে যুদ্ধে ক্যাপ্টেন কাদের শহীদ হন।

 

তারপর বর্ডার ক্রস করে ভারতে চলে যাই। সেখানে উচ্চতর টেনিংয়ের জন্য রিপোর্ট করি এবং দেরাদুনে সামরিক একাডেমিতে ইন্টেলিজেন্ট ও গেরিলা যুদ্ধ সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ নিই। জুলাইয়ে আমাকে জোনাল লিবারেশন কাউন্সিল-১ এর অধীনে সামরিক লিঁয়াজো অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আমার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রামের রাউজান, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম শহরের ডবলমুরিং এলাকা। এতে আমি ভারতীয় সেনাবাহিনীর চৌকস অফিসার লে. জেনারেল সাবেদ সিংহের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করি। যেদিন পাকবাহিনী আত্মসমর্পন করে, তখন আমি মেজর রফিকের সাথে সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থান করি।

 

বীর কাজী মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব রাউজান পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম কাজী আবদুল হালিম ও মরহুমা বেগম আমাতুন নুরের ছেলে। তিনি ১ ছেলে ৩ কন্যার জনক।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট