চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩

সর্বশেষ:

৩০ নভেম্বর, ২০২২ | ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘ওপরমহলের’ চাপ পাউবো’র ১২শ কোটি টাকার প্রকল্পে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পটিয়ার ১২শ কোটি টাকার প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ার শুরুতেই চার প্রকৌশলীকে রদবদল করা হয়। নেতাদের পছন্দনীয় ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার চাপে ‘চেয়ার’ টিকিয়ে রাখতে পারেননি বলে জানান একাধিক কর্মকর্তা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রকৌশলী বলেন, প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন হওয়ার পর থেকেই ‘ওপরমহলের’ নানা তদবির ও চাপ সৃষ্টি হয়। এক প্যাকেজের কাজের জন্য একাধিক বড় নেতা বা জনপ্রতিনিধি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি একটি কাজের জন্য ফোন করেছেন শীর্ষস্থানীয় তিনজন বড় নেতা। সবাই কাজ পাইয়ে দিতে চান।

 

এছাড়াও রয়েছে জনপ্রতিনিধি ও তাদের স্বজনেরা। চতুর্মুখী চাপে পড়ে কর্মকর্তারা ত্রাহি অবস্থায় ছিলেন। বহুমুখী চাপ সইতে না পেরে একে একে চার প্রকৌশলীকে রদবদল করা হয়।

 

পাউবো সূত্র জানায়, পটিয়া জলাবদ্ধতারোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পটি গত ৪ এপ্রিল একনেক সভায় পাস হয়। ব্যয় ধরা হয়েছে ১১শ কোটি ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান গতকাল পূর্বকোণকে বলেন, ‘৪৫ প্যাকেজের কাজে ১১টি প্যাকেজের কাজের দরপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অনুকূলে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।’ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে অর্থ সংকটের শঙ্কা রয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত এপ্রিলে প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ার শুরুতে দায়িত্বে ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা। তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নীলফামারি জেলা থেকে মোহাম্মদ আলী নামে আরেক প্রকৌশলীকে বসানো হয় ওই চেয়ারে। টেন্ডার প্রক্রিয়া ও দরপত্র জটিলতার গ্যাঁড়াকলে তাকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঢাকায় বদলি করা হয়। এরমধ্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন আরেক নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উদ-জামান। বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে আছেন মাহবুবুর রহমান।
নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ থেকে বদলি হওয়া এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ‘দ্রুততার সঙ্গে চেয়ারে বসানো হয়েছে। কিন্তু এত চাপ সহ্য করতে না পেরে দ্রুত চেয়ার ছাড়তে হয়েছে।’

 

একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বললেন, ‘শর্ত না মেনে টেনেটুনে কাজ দেওয়ার জন্য নানামুখী চাপ ছিল। জনপ্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধির ভাই-স্বজন, আমলা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতে না পারায় বদলি করা হয়েছে।’

 

 পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট