চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

১১ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া-পেকুয়া

গর্জন পাচারে জড়িত বনবিট কর্মকর্তা !

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বারবাকিয়া বনবিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী যোগসাজশে দেদারসে চলছে গর্জন গাছ পাচার। বুধবার ভোরে গর্জনসহ জব্দ করা দু’টি গাড়ি গভীর রাতে তিনি ছেড়ে দিলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার ভোরে পেকুয়া উপজেলা সদরের চৌমুহনী স্টেশনের উত্তর পাশে আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে চোরাই গর্জন গাছসহ দু’টি ট্রলি গাড়ি পুলিশের সহায়তায় জব্দ করেন বারবাকিয়া বনবিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী। গাছসহ গাড়ি দু’টি তিনি বারবাকিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে যান। একইদিন রাতে পেকুয়া কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদের মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে গাড়ি দু’টি ছেড়ে দেন বনবিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী। গাড়ি দু’টিতে অন্তত চার লক্ষ টাকার চোরাই গর্জন কাঠ ছিলো। কাঠগুলো জব্দ করে বনবিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

 

গাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বারবাকিয়া বনবিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবীকে টাকা না দিয়ে একটা গাছও পরিবহন করা যায়না। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গাড়ি দু’টি তিনি আটক করেন। পরে টাকা নিয়ে গাড়ি ছেড়ে দেন। মঙ্গলবার মধ্য রাতে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের সাবেক গুলদি এলাকায় সাংবাদিক ও বনরক্ষী পরিচয়ে গর্জন গাছভর্তি আরেকটি গাড়ি আটকে ৪৪ হাজার টাকা আদায় করেন। গাছ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। বিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবীর যোগসাজশে এসব হচ্ছে।

 

পেকুয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শেখ ফরিদ বলেন, বিট কর্মকর্তা আমির হোসেন গজনবী গাড়ি আটকে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তাই গাড়ি দু’টি জব্দ করে তাকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু গভীর রাতে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার খবরে আমরা বিস্মিত হয়েছি। পেকুয়া বাজার কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, গরীব অসহায় মানুষের গাড়ি দু’টি ছাড়িয়ে নিতে আমি বনবিভাগের কাছে গিয়েছিলাম। বিট কর্মকর্তা আমার অনুরোধে গাড়ি দু’টি ছেড়ে দিয়েছেন।

 

বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হাবিবুল হক বলেন, ঘটনার সময় আমি ছুটিতে কর্মস্থলের বাইরে ছিলাম। বিষয়টি বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, চোরাই বা অবৈধ কাঠ বনরক্ষীরা জব্দ করতে পারেন। কিন্তু অনৈতিক সুবিধা নিয়ে কাউকে ছাড় দিতে পারেন না। গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/আর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট