চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২

২ নভেম্বর, ২০২২ | ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

খাগড়াছড়িতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চাঁদের গাড়ি

খাগড়াছড়িতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লাইসেন্স ও ফিটনেটবিহীন জিপ বা চাঁদের গাড়ি। এসব গাড়ি চালকের অধিকাংশের নেই কোনো লাইসেন্স। নড়বড়ে লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি সড়কে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের উঁচু নিচু পাহাড়ি সড়কে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের জন্য অন্তত ষাট বছর আগে খাগড়াছড়িতে চাঁদের গাড়ি বা জিপ চলাচল শুরু হয়। বাজার থেকে ইঞ্জিন কিনে স্থানীয় মিস্ত্রির মাধ্যমে এসব গাড়ি প্রস্তুত করার পর স্থানীয় জিপ সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সড়কে চলাচল শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সাজেক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার পর এসব নড়বড়ে গাড়িতে পর্যটকও পরিবহণ করা হচ্ছে। চলতি বছরে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় পর্যটকসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন গাড়ির পাশাপাশি চালকের বেপোরোয়া মনোভাবকে দায়ী করেছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলী, জাফর মিয়া বলেন খাগড়াছড়িতে ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্স বিহীন চাঁদের গাড়ির সংখ্যা ৪ শতাধিক। তাদের অনেক চালক নেশা করে গাড়ি চালায়। রাস্তায় ওভার ট্রেকিং করে। এদিকে চাঁদের গাড়ি বা জিপে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে পর্যটকরা। নারায়ণগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মোহন আহমদ, ফয়সাল জানান, ‘চাঁদের গাড়িগুলো ফিটনেস নেই। আরও ড্রাইভারদের লাইসেন্স নেই। এসব কারণে চাঁদের গাড়ির ভ্রমণ করতে ভয় লাগছে। চালকরা বলছে, সহজেই লাইসেন্স মিলে না। এছাড়া অনেক পরিবহণ মালিক অপ্রাপ্ত বয়স্কদের চালক হিসাবে নিয়োগ করে। এতে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবাইকে লাইসেন্সের আওতায় আনলেও কমবে দুর্ঘটনা।

খাগড়াছড়ির চাঁদের গাড়ির চালক মো. জসীম, মো. ইয়াসিন ও মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘পাহাড়ি সড়কে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া পরিবহণ মালিকরা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের গাড়ির চাবি দিচ্ছে। সবাইকে লাইসেন্সের আওতায় আনলে দুর্ঘটনা কমানো যাবে।’ দুর্গম পাহাড়ে চাঁদের গাড়ি বা জিপের বিকল্প নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহণ জিপ মালিক সমিতির নেতারা বলছে বারবার বিআরটিএতে আবেদন করার পরও গাড়ির ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশন পাচ্ছি না। খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহণ জিপ মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক-পলাশ দে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিআরটিএতে যাই। কিন্তু আমাদের ফিটনেস দিচ্ছে না। সরকারি রাজস্ব যা আসে তা আমরা দিতে রাজি তারপরও আমরা গাড়ির ফিটনেস সনদ ও লাইসেন্স চাই।

তবে স্থানীয়ভাবে তৈরিকৃত এসব গাড়ি ফিটনেস বা লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে খাগড়াছড়ি বিআরটিএ এর মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম। অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক। তিনি বলেন, যেসব গাড়ি অবৈধভাবে চলছে সেসব গাড়ি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্যসূত্র: যুগান্তর

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট