চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২

সর্বশেষ:

২৮ অক্টোবর, ২০২২ | ৭:৩৭ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

অর্ধশতাধিক সেগুন গাছ কেটে বিক্রি, কাঠবোঝাই ট্রাক আটক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাহাড় থেকে অর্ধ শতাধিক মূল্যবান সেগুন গাছ পাচারের চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম এই অভিযান পরিচালনা করেন। তবে অভিযানের সময় পালিয়ে যায় বন খেকোরা। এদিকে অভিযোগ রয়েছে ঘটনাস্থলের মাত্র কয়েক’শ গজ দূরেই রয়েছে একটি ফরেষ্ট অফিস। গাছ কাটার সময় সেই অফিসের বিট কর্মকর্তা সেখানে গেলেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করেছেন। ফলে নির্বিচারে গাছগুলো কাটার সাহস পেয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের সরকারি পাহাড়ের একটি অংশে চাষাবাদ করছিলেন বাড়বকুণ্ডের দাড়ালিয়া পাড়ার ছালে আহমেদ ড্রাইভারের ছেলে সেকান্দার। ঐ বাগানে রয়েছে শত শত সরকারি সেগুন গাছ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সেকান্দার অন্তত ৩০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে বাগানের বড় বড় অর্ধ শতাধিক সেগুন গাছ কেটে বিভিন্ন চক্রের কাছে বিক্রি করতে শুরু করেন। রাতে কয়েকটি ট্রাকে কাঠ পাচার হয় বাগান থেকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ঘটনাস্থলের মাত্র কয়েক’শ গজ দূরে থাকা বাড়বকুণ্ড ফরেষ্টের বিট অফিস থাকলেও রহস্যজনক কারণে নীরবতা পালন করেছেন বন কর্মকর্তারা। ফলে সাহস পেয়ে তারা নির্বিচারে বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ট্রাকযোগে স্থানীয় একটি স-মিলে নিয়ে চিরে ফেলছিলেন।

 

শুক্রবার সকাল থেকেও তারা গাছ কেটে একইভাবে নিয়ে যাবার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এসময় পথমধ্যে একটি কাঠবোঝাই ট্রাক যেতে দেখে আটক করেন তিনি। এছাড়া পাহাড়ের ভেতরে গেলে দেখা যায়, কিছু দূর পর পর বড় বড় সেগুন গাছ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্ধ শতাধিক সেগুন গাছ কাটা হয়েছে বলে ধারণা করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গাছগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও ভূমি অফিসের কর্মীদের জিম্মায় রাখেন। এদিকে বাড়বকুণ্ড বন বিট অফিসের এত কাছে কিভাবে গাছগুলো কাটা হচ্ছে তা জানতে চাইলে কুমিরার রেঞ্জ অফিসার মো. মকসুদ বলেন, এই গাছগুলো কাটার জন্য একটি চক্র আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলো। তাদের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে আমরা দেখি যেখানে গাছ সে দাগের সাথে আবেদনপত্রের দাগের মিল নেই। যেখানে গাছ আছে সেটি অন্য দাগের জায়গা। তাই আমরা তাদেরকে গাছ কাটার কোন অনুমোদন দিইনি। কিন্তু শুক্রবার থাকার সুযোগ নিয়ে চক্রটি এই গাছগুলো কেটে ফেলছিলো। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম বলেন, পাহাড় থেকে সেগুন কাঠ কেটে গোপনে পাচার করা হচ্ছে মর্মে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমি সেখানে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানকালে কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক আটক ও পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে কেটে ফেলে রাখা বিশালাকার বেশ কিছু সেগুন গাছের টুকরো জব্দ করি। সব মিলিয়ে অর্ধ শতাধিক গাছ কেটে নিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ঘটনাস্থলের কাছে বন বিভাগের কর্মকর্তারা থাকার পরও তারা কেন এ বিষয়ে নীরব ছিলো তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। অভিযানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড থানার এস.আই রবিউলসহ সঙ্গীয় ফোর্স।

 

পূর্বকোণ/সৌমিত্র/রাজীব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট