চট্টগ্রাম সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩

৯ জানুয়ারি, ২০২৩ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে

হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা নামল ৭ ডিগ্রিতে। এর মধ্যে চলছে শৈত্যপ্রবাহ। টানা তিনদিন মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পর ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিয়েছে।

 

সোমবার (৯ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

 

জেলার আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯.৬, ৯.৫ ও ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। যা গতকালের (রবিবার) ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে আজ ৭ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। যা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এর আগে, জেলায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে স্মরণকালের সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

 

ভোর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পুরো জেলা। বেলা বাড়লেও কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও মেলে না রোদের উষ্ণতা। বিকেল গড়ালেই হিমেল হাওয়া বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা।

 

শীতের তাণ্ডবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী-কর্মজীবী গরীব অসহায় মানুষেরা। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে রিকশা-ভ্যানচালক মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে। ভোর-সকালে শীতের তীব্র প্রকোপের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। তবুও পেটের তাগিদে কাউকে নদীতে পাথর তুলতে, কাউকে চা-বাগানে আবার কাউকে দিনমজুরের কাজ করতে যেতে দেখা গেছে। শীতের দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে। এসব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার যে ত্রাণ দিয়েছে তা একেবারেই অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। তারা জানান, ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে ক্ষেতখামারে কাজ করতে পারছেন না। দেরিতে মাঠে যেতে হচ্ছে। এখন বোরো মৌসুম। ভুট্টা, মরিচ, গমসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করতে হচ্ছে। শীতের কারণে দেরি করে জমিতে গিয়ে কাজ এগুচ্ছে না বলেও জানান তারা।

 

শীতের কারণে পড়ালেখা স্থবির হয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও। সকালে স্কুল শিক্ষার্থী তানিয়া, কাজল ও নাইমা খাতুন জানায়, কনকনে শীত। রাতেও শীতের কারণে পড়তে পারি না। রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। সকালে কুয়াশা আর বাতাসের কারণে প্রাইভেট পড়তে ও স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে।

 

এদিকে শীতে প্রকোপে বেড়েছে নানান শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

 

চিকিৎসকরা বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। এমনিতে শীত মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ হিসেবে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট বেশি হয়ে থাকে। আর শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে কিছুটা হলেও সুরক্ষা মিলবে।

 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, জেলায় আজ মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। গতকালের থেকে তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সকাল ৯টায় জেলায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। যা সারাদেশের সর্বনিম্ন।

 

পূর্বকোণ/আরএ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট