চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

সর্বশেষ:

৫ জুলাই, ২০২২ | ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

মোর্শেদ নয়ন, কর্ণফুলী

মইজ্জারটেকে এখনো জমেনি কেনাবেচা, গোলাপি মহিষ ঘিরে আগ্রহ

উপচেপড়া ভিড় পশুর হাটে, দাম-দরেই দিন পার

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও শহরের সংযোগস্থল কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক মাঠের বিশাল এলাকা নিয়ে বসেছে পশুর হাট। গরু-ছাগল-মহিষে ঠাসা। মানুষের ভিড়ও উপচেপড়া। তবে সেই তুলনায় নেই কেনাবেচা।

ক্রেতারা বাজারে ঘুরে কুরবানির পশু দেখছেন। বুঝে নিচ্ছেন দাম-দরের অবস্থা। ৩ জুলাই বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক সিডিএ আবাসিক মাঠের কুরবানির পশুর হাটের চিত্র ছিল এমনই। তবে মইজ্জারটেক পশুর হাটের এবারের মূল আর্কষণ এলবিনো জাতের বিরল প্রজাতির দুইটি গোলাপি রঙের মহিষ। সচরাচর মহিষ হয় কালো রঙের। কালো রঙের ছাড়া অন্য রঙের মহিষ চোখেই পড়ে না। গোলাপি রঙের মহিষ জীবনে দেখেনি অনেকেই। তাই গত কয়েকদিন ধরে মহিষগুলো দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করছে হাটে।

জানা যায়, ফেমাস এগ্রো ফার্ম নামের একটি প্রতিষ্ঠান ক্রেতা আকর্ষণের জন্য মহিষগুলো এনেছেন সিলেট সীমান্ত এলাকা থেকে। মূলত এগুলো আনা হয়েছিল ভারত থেকে। মহিষ দুটির মালিক শখ করে তাদের নাম দিয়েছেন ‘রাজবাবু’ আর ‘পদ্মাসেতু’। মহিষগুলোর দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা করে। গোলাপি রঙের মহিষের আসল নাম এলবিনো। প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোটিতে একটি এমন মহিষের দেখা পাওয়া যায়। পৃথিবীজুড়েই এখন গোলাপি মহিষ বিলুপ্তপ্রায়। এমন কিছু মহিষ এখনও আছে পাশের দেশ ভারতে।

মহিষগুলো দেখতে আসা কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম বলেন, গোলাপি রঙের মহিষ কখনো দেখিনি। তাই গোলাপি মহিষের কথা শুনতে পেয়ে দেখতে এসেছি। আমার পছন্দ হয়েছে। আগামীকাল ছেলেকে নিয়ে আসব। ওর পছন্দ হলে একটা কিনে ফেলব।

মহিষগুলোর মালিক মো. সাজ্জাদ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ৭/৮ মাস আগে আমি একটি ২ লক্ষ টাকা ও আরেকটি ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মহিষগুলো সিলেট সীমান্ত এলাকা থেকে কিনে নিয়ে আসি। এগুলো মূলত ভারতীয় মহিষ। এ পর্যন্ত একেকটি মহিষ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। দেখে-শুনে দুই একদিনের মধ্যে ছেড়ে দিব।

বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, গবাদিপশুর সরবরাহ অন্যবারের তুলনায় বেশি। হাটে বেশিরভাগ দেশি গরু। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার খামার ও কৃষকের বাড়িতে লালিত-পালিত গরুর আধিক্য দেখা গেছে পশুর হাটে। পেশাদার ব্যবসায়ী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেক চাষি এবং গৃহস্থ সরাসরি গরু নিয়ে বাজারে এসেছেন। এরপরও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে আসছে গরু-মহিষ।

মইজ্জারটেক বাজারের ইজারাদার আব্দুল শুক্কুর জানান, ক্রেতা-বিক্রেতা যেন বৃষ্টি-রোদ থেকে রক্ষা পায় সেজন্য পুরো বাজার ত্রিপল দিয়ে প্যান্ডেল করে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ক্রেতা-ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য পুরো বাজার সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনও রাখা হয়েছে এ বাজারে। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বাজার চলবে।

জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ পূর্বকোণকে বলেন, এমনিতে মইজ্জারটেক মোড় ও চেকপোস্টে আমাদের দুইটি টিম সার্বক্ষণিক থাকে। এছাড়াও বাজারে পুলিশের বুথ থাকবে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা কাজ করবেন।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট